ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূরীকরণের উদ্যোগ নেওয়াসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদপন্থি শিক্ষকেরা।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, গত ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ময়দানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে মাওলানা সাদ অনুসারীরা ব্যক্তি ও সামাজিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাদের অনেক মসজিদে স্বাভাবিক আমলও করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনা দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’
নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ইজতেমা অনুষ্ঠান, কাকরাইল মসজিদে আমলের সময় বণ্টন, দুই পক্ষের বিদেশি মেহমান ও সর্বোচ্চ মুরুব্বিদের আগমন, পুরানো সাথীদের পাঁচ দিনের জোড় অনুষ্ঠান এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের মার্কাজ ও বিভিন্ন মসজিদে আমলের দিন ও সময় বণ্টনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাওলানা সাদ অনুসারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’
এ সময় জননিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা ও দেশের গতিশীল অগ্রগতির লক্ষ্যে এসব বৈষম্য নিরসন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক।
ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা, সরকার ও সচেতন দেশবাসীর কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দাবিগুলো হলো- সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া, টঙ্গী ময়দানে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, গ্রেফতার নিরপরাধ কারাবন্দিদের দ্রুত মুক্তি, উভয় পক্ষকে তাদের সর্বোচ্চ মুরুব্বিদের নিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া, কাকরাইল মসজিদে আমলের সময় সমবণ্টন করা, টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ দুই পক্ষকে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া, দেশের অন্যান্য মসজিদে আমলের সময় সমবণ্টন, কোনও পক্ষ মসজিদে আমলের সময় অন্য পক্ষকে বাধা না দেওয়ার বিষয় পর্যবেক্ষণ ও আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং পূর্বঘোষিত তারিখ (৭-৯ ফেব্রুয়ারি) অনুযায়ী মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ মনিরুল ইসলাম, বুয়েটের অধ্যাপক ড. শফিউল বারী এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এন এম আসাদুজ্জামান ফকির।








