নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের দফতর সম্পাদক কাজী আহাদ, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াদ হাসান এবং অর্থ সম্পাদক মো. নুহীন ফিল আল আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ বছরের পথচলায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বলতে হয় যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষার্থীরা সেভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠার ১৯ বছরে এখন পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মাত্র ৬১ জন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৭০০। অর্থাৎ জবি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জবিতে শিক্ষক নিয়োগ ১০% এরও কম।
অপরদিকে, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে অধিক সুযোগ পেয়েছে, যার অধিকাংশই ঢাবির ছাত্র নেতা। অর্থাৎ জবিকে ঢাবির এক প্রকার কলোনির মতো করে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে একটি দুর্বল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সামগ্রিক মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি যে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দিতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, জবি থেকে ভিসি এবং ট্রেজারার নিয়োগের ফলে জবির উন্নতি যেমন দৃশ্যমান তেমনভাবে জবির শিক্ষার্থীদের শিক্ষক নিয়োগে প্রাধান্যের নীতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
তারা আরও জানান, আগামীকাল থেকে এই দাবির পক্ষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমর্থন কামনা করা হয়েছে।








