প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রবিবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সিআইডি জানায়, মাদারগঞ্জ উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গড়ে ওঠা ‘আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে একটি ছায়া ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম চালাতো। উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জামালপুরসহ আশেপাশের জেলার প্রায় ১৩-১৪ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে। প্রতি লাখ টাকায় মাসে ১২০০-১৫০০ টাকা মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তারা এই অর্থ নেয়।
শুরুতে সীমিত পরিসরে মুনাফা দিলেও কিছু সময় পর গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং সমিতির মালিক ও কর্মকর্তারা অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারও সাধারণ মানুষ।
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে সমিতির পরিচালকরাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন। এ পর্যন্ত যেসব সম্পদ চিহ্নিত ও ক্রোক করা হয়েছে তার পরিমাণ ৩১১৩ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক মূল্য ৪০০ কোটি টাকা।
ক্রোককৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে- জামালপুর সদর উপজেলার গহেরপাড়া মৌজায় ১৫ একর জমির ওপর আলফা অস্ট্রোবিকস নামে ইটভাটা, গাজীপুর দক্ষিণ সালনা এলাকায় ৩৫০ শতাংশ জমির ওপর আলফা ড্রেসওয়ার নামে গার্মেন্টস কারখানা, আলফা ডেভেলপার ও আলফা ড্রেসওয়ার নামে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে ৯টি প্লট, এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও জামালপুরে রয়েছে আরও অনেক জমি ও স্থাপনা।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পরিদর্শক মো. ছায়েদুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ৯ জুলাই এ সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।
এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালতের আদেশে তাদের বিদেশ গমনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতারণা ও অর্থপাচারের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







