গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম বলেছেন, গত ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আওয়ামী লীগকরণ করা হয়েছিল। স্বৈরতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের সবগুলো প্রতিষ্ঠান দলীয়করণই যথেষ্ট। আবারও একটি দল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পিএসসি সংস্কার ও চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগের পাঁয়তারা বন্ধে’র দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
হাসিব আল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরিতে কোনও দলের কিংবা মতের রিকমেন্ডেশনে (সুপারিশ) বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন এবং স্বতন্ত্রভাবে চলতে দিতে হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাবি শাখার মুখপাত্র রাফিয়া রেহনুমা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ এই দেশের যতগুলো সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ আছে, সবগুলোকে ঘুণে ধরা কাঠামোতে পরিণত করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হোল্ডকে অ্যাস্টাবলিশ করার মাধ্যমে।
এসময় তিনি অবৈধ রাজনৈতিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্য কামনা করে বলেন, সামনে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক তারা কোনভাবেই যেন এই সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবৈধভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে। সে জন্য দলমত নির্বিশেষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।
এসময় ‘পিএসসি সংস্কার’ প্রসঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনকারীরা। দাবি উত্থাপন ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী ও ৪৪তম বিসিএসপ্রত্যাশী সিরাজুল সালেহীন। তিনি বলেন, আমরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে আমাদের ২টি দাবি জানাচ্ছি।
১. বিএসসিসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সুপারিশ ও রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
২. পিএসসিসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র কমিটি থাকবে।
দাবি পূরণ না হলে প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাও করা হবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সালেহীন বলেন, এই দুইটি দাবি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূরণের আল্টিমেটাম জানানো হচ্ছে। তা না হলে আমরা কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবো। অবরোধ, ব্লকেড ইত্যাদি কঠোর কর্মসূচির দিকে আমরা ধাবিত হবো। আমরা পিএসসি ঘেরাও করবো, প্রয়োজনে আমরা সচিবালয় ঘেরাও করবো।
এর আগে, ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি হলপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এসময় আন্দোলনকারীরা, 'জুলাইয়ের অঙ্গীকার, পিএসসি সংস্কার', 'চব্বিশের অঙ্গীকার, পিএসসি সংস্কার', 'পিএসসি নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না'সহ নানা স্লোগান দেন।









