রাজধানীর দক্ষিণখানে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী আকলিমা বেগমকে (৩৩) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন স্বামী মাসুদ আলম (৪৩)।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়ানবাড়ি পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আকলিমা বেগমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাসুদের হাতও কেটে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আকলিমাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় মাসুদকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ৮ বছর আগে মাসুদ ও আকলিমা প্রেম করে বিয়ে করেন। এটি ছিল উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। আকলিমার প্রথম সংসারে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর মাসুদ দীর্ঘদিন দুবাই প্রবাসী ছিলেন, এ সময়ে আকলিমা স্থানীয়ভাবে একটি কাপড়ের দোকান চালাতেন। মাসুদের সন্দেহ ছিল, স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং গোপনে বিয়েও করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল।
ছয় মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর দাম্পত্য সম্পর্কে আরও টানাপড়েন দেখা দেয়। তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সম্প্রতি মাসুদ তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ শুরু করেন এবং ঘটনার দিন আকলিমার ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করেন। আকলিমা দৌড়ে বাড়ির মালিকের ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে মাসুদ সেখানে গিয়েই তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
নিহত আকলিমা ও আটক স্বামী মাসুদ আলম দুইজনেই নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা।









