রাজধানীর আদাবরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের দলনেতা জনি ও রনিসহ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—ঘটনার মূলহোতা মো. রনি (২৭) ও তার ভাই মো. জনি (২৪) এবং সহযোগী মো. ওসমান (২০), মো. নাজির (২০), মো. রাজু (২৭), মো. শাকিল (১৯), মো. আবুল কামাল আজাদ (১৯), মো. রেজু খান আলম (২২), মো. আলামিন (১৮)।
ডিসি রাকিব খান বলেন, গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর আদাবর থানার শ্যামলী হাউজিং এলাকায় এক প্রেমিক যুগল অপহরণ করে মারধর ও মুক্তিপণ দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানালে তাদের উদ্ধারের থানার ডিউটিরত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় অপহরণকারী গ্যাং সদস্যরা অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশ এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এসময় পুলিশের টহল গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পরে গ্রুপের সক্রিয় সদস্য রনি, জনি ও অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পরেই ডিবি-তেজগাঁও বিভাগের একাধিক অভিযানিক দল এই গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ ও সাভার থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য জনি ও রনিসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিসি রাকিব খান আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা রাজধানীর মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। কব্জি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার হাজতে থাকায় তার হয়ে গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন রনি ও জনি। পুলিশের ওপর হামলায় রনি ও জনির নেতৃত্বে ওসমান, দাঁতভাঙ্গা সুজন, নাজির, কব্জি কাটা হৃদয় ও গাঁজা ব্যবসায়ী রাজুসহ অনেকে সরাসরি জড়িত। আদাবর সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে গিয়ে মারামারি ও হাতের কব্জি কাটাসহ বহু মানুষকে কুপিয়ে আহত ও পঙ্গু করেছে। শুধু কব্জি কেটেই ক্ষান্ত হয়নি এই গ্রুপ, কবজি কেটে টিকটকে ভিডিও করে উল্লাস করতো গ্রুপের সদস্যরা। তারা আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি, মাদক সেবন ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এ ছাড়াও অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, জবর দখল, ভাড়ায় শক্তি প্রদর্শন এবং আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপকর্মে চিহ্নিত এসব বেপরোয়া ও মাদকসেবী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অত্যাচারে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ ও অসহায় হয়ে পড়েছে।








