জাতীয় নির্বাচনে ১০০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন দাবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৯আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:০০

দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও হতাশাজনকভাবে কম। এ অবস্থা পরিবর্তনে প্রস্তাবিত জুলাই সনদের খসড়ায় উল্লিখিত সংসদে বর্ধিত সংরক্ষিত ১০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’। এছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দাবি করেছে তারা।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় নারীর অধিকার বিষয়ক ১২টি সংগঠনের এই জোট।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুস্মিতা রায় বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংসদে নারীর সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা সীমিত। বর্তমানে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে মাত্র ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে; যা দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে পূরণ হয়। ফলে নারীরা স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয়ে অগ্রসর হতে পারছেন না।

লিখিত বক্তব্যে তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১০০ আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া নারীর যথাযোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করা ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে ধাপে ধাপে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং জুলাই সনদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব বিষয়ে সরাসরি নির্বাচন ও নির্বাচনি পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি করা হয়।

এ সময় রাজনৈতিক দল মনোনীত কিংবা স্বতন্ত্র সব নারী প্রার্থীর জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা বরাদ্দের দাবি জানান বক্তারা।

ফোরাম সদস্য মাহিন সুলতান বলেন, নারীর নেতৃত্ব বিকাশের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য ২০২৬ সালের নির্বাচনে অন্তত ১০০ আসনে নারী প্রার্থীকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

একশনএইটের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির অভিযোগ করেন, সংসদীয় রাজনীতিতে নারীর অবদান সবসময়ই গৌণ রাখা হয়েছে। সমাজ, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে নারীর অসামান্য অবদান থাকলেও তা জাতীয় সংসদে প্রতিফলিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোও নারীর নেতৃত্ব তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নারী সংগঠক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সবার অভিন্ন মতামত ছিল– যথাযথ নারী প্রতিনিধিত্ব ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

/এসএ/আরকে/
সম্পর্কিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইসি
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী