মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ২১ জুলাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘শোক দিবস’ পালনের দাবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:৩৬আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:৩৬

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই দিনটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক দিবস হিসেবে পালনসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, তারা অবর্ণনীয় ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। অনেকের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে। বর্তমানে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা তিনজন শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।

ঘটনায় আহত জায়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত বলেন, ‘আমার মেয়েটা পরিপাটি ছিল। হাতে মেহেদি দিত, ব্রেসলেট পরত। ওর হাত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সে বলে, হাত জম্বির মতো হয়ে গেছে। ওর প্রশ্নের উত্তর আমি কী দেব? এই বাচ্চাগুলোকে সমাজ কোন চোখে দেখবে? কারও হাতে কলম উঠবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেক বাচ্চা বসতে পারে না। তার ফিজিওথেরাপি দরকার। সেই বাচ্চার বাবা নেই। সে কার কাছে যাবে? আবিদুর রহিম নামের এক বাচ্চা কী যে কষ্ট পাচ্ছে। তার শরীরে আর কোনও জায়গা নেই যে চামড়া নেবে। একটা বাচ্চা মানসিক সমস্যা নিয়ে আবার ভর্তি হয়েছে। শব্দ শুনলে সে চিৎকার দেয়। অনেকে কানেও শোনে না। কয়েকজন শিক্ষকও আহত। তারা কি কর্মজীবনে ফিরতে পারবেন?’

দুর্ঘটনায় নিহত সামিউলের বাবা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ভালো নেই। দুই মাস ধরে ঘুমাতে পারি না। এ দেশে এত মানুষ, তবু পাশে কি কাউকে পাব না? এই মুহূর্তে আমাদের স্কুলের বারান্দায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু এখন এখানে। সরকার আমাদের পাশে আসেনি।’

সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেজাউল করিম বলেন, ‘লাশের সঙ্গে একটা কপি পেয়েছেন। এরপর আর কারও কোনও যোগাযোগ নেই।’

এ সময় নিহত-আহতদের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেন নিহত নাজিয়া ও নাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম।

দাবিগুলো হলো-

১. দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিচার করা।

২. প্রত্যেক নিহতদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

৩. সরকারি ব্যবস্থাপনায় হেলথ কার্ড দেওয়া।

৪. দুর্ঘটনায় আহতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

৫. ২১ জুলাই দিনটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক দিবস হিসেবে পালন।

৬. নিহতদের কবর সংরক্ষণ।

৭. রাষ্ট্রীয়ভাবে নিহতদের শহীদী মর্যাদা দেওয়া।

৮. রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মরণে একটি মসজিদ নির্মাণ।

/এসএ/এমএইচআর/
সম্পর্কিত
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ 
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের