কেন ফ্লোটিলা এত আলোচনায়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:০০আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:১৩

সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সেখানে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়ার খবরে কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম সয়লাব। সেখানে কেবল যে উৎসাহিত করা হচ্ছে তাই নয়, আছে সমালোচনার পোস্টও। কিন্তু এবারই কি প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ, আগে কখনও এত আলোচনা হয়নি কেন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ২০১০ সাল থেকে গাজাতেই বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্লোটিলা বাহিনী। সেসব বহরে সাংবাদিক, অধিকারকর্মীরা একেবারেই থাকতেন না তা নয়, এবার মিডিয়া ফ্লোটিলা ব্যাপারটাকে আলাদা করে অধিক সংখ্যক অধিকারকর্মীকে যুক্ত করা সম্ভব হওয়ায় যাত্রাটি বিশেষত্ব পেয়েছে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের গণহত্যা নিয়ে প্রতিদিনের হত্যাচিত্র দেখে এ বিশ্বের মানবিক মানুষেরা দেশটির পক্ষে সংগঠিতভাবে আওয়াজ তোলা শুরু করেছে। এ কারণেও এবারের এই যাত্রা অনেক বেশি মনোযোগ ও সমর্থন পেয়েছে।

বার্সেলোনা বন্দরে নোঙর করা ফ্লোটিলা বাহিনীর কয়েকটি নৌকা। ছবিটি গত ৩১ ডিসেম্বর তোলা/এএফপি

এবারই কি প্রথম

এবারই প্রথম নয়, ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ বা ‘গাজার ফ্লোটিলা’ নামে আন্তর্জাতিকভাবে একাধিকবার জাহাজ পাঠানো হয়েছে গাজার অবরোধ ভাঙতে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০১০ সালের ‘গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলা’। সেবার তুর্কি বেসরকারি সংস্থা আইএইচএইচ’র নেতৃত্বে ছয়টি জাহাজ গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে রওনা দিয়েছিল। ইসরায়েলি সেনারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আক্রমণ করার কারণে সেই বহরের অন্তত ৯ জন নিহত হন। এরপর ২০১১-২০২৩ পর্যন্ত অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোট আকারে একাধিক ফ্লোটিলা চেষ্টা করা হয়, তবে ইসরায়েল প্রায় সবগুলো আটকায় বা গাজায় পৌঁছাতে দেয়নি। এবার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহর ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও নৌযান এ বহরে যুক্ত হয়। এ ছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে পরবর্তী সময়ে ত্রাণ নিয়ে বহরে যুক্ত হয় আরও কিছু নৌযান।

এবারে বহরে কেন চোখ

এবারের বহরে যারা আছেন তারা প্রত্যেকে যার যার কাজ দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করেছেন বহু আগেই। বহরও বেশ বড়। সেখানে বিখ্যাত সব মানুষ গাজা অবরোধ ভাঙবেন আশায় রওনা হয়েছেন। উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহরে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান আছে। এ বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষ আছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক আছেন।

আলোকচিত্রী শহীদুল আলম/ছবি: সংগৃহীত

বহরে আছেন সুইডিশ জলবায়ুকর্মী ও ফ্লোটিলার স্টিয়ারিং কমিটির একজন সদস্য গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিচিত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য মান্ডলা ম্যান্ডেলা। ব্রাজিলীয় অ্যাক্টিভিস্ট ও সুমুদ ফ্লোটিলার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য খিয়গো, স্পেনের বার্সেলোনার প্রাক্তন মেয়র এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায্যতা আদায়ে সোচ্চার নেত্রী আদা কোলাউ এবং বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। অন্য যেকোনও বারের তুলনায় এবার যাত্রাপথের প্রতিটি মুহূর্তের ছবি, পরিস্থিতি, আবহাওয়ার সঙ্গে যে যুদ্ধ, কীভাবে বহরের আগের অংশ হামলার শিকার হলে পিছনের অংশ কৌশল ঠিক করে সবকিছু মানুষের সামনে হাজির হচ্ছে। ফলে আগ্রহী সহানুভূতিশীল মানুষ জানছেন তারা কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের কাজ নিজেরা করে, শত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে অবরোধ ভাঙতে এগিয়ে চলেছেন।

কারা যুক্ত হয়, কারা আয়োজক

১০১৪ সালে গাজার অবরোধ ভাঙার জন্য রওনা দেওয়া ফিলিস্তিনপন্থি মানবাধিকারকর্মীদের বহনকারী জাহাজ দ্য মাভি মারমারা/ ছবি: সংগৃহীত

মূল উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) নামে একটি আন্তর্জাতিক সমবায় বা জোটের মাধ্যমে। এফএফসি গঠিত হয়েছিল ২০১০ সালে গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলা অভিযান শেষে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সমর্থন করা সংগঠনকে একসঙ্গে সমন্বয় করা। প্রথম গঠন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ফ্রি গাজা মুভমেন্ট, ইউরোপিয়ান ক্যাম্পেইন টু অ্যান্ড দ্য সিজ অন গাজা, তুরস্কের আইএইচএইচ। সাম্প্রতিক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ক্ষেত্রে এফএফসি ছাড়াও আরও কিছু সংগঠন যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আছে– গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মেহরাব সুমুদ ফ্লোটিলা, সুমুদ নুসানতারা। এসব সংগঠন সাধারণত রাজনৈতিক দল নয়; অধিকাংশই নাগরিক সমাজ, অধিকার আন্দোলন, পার্টনার এনজিও, সলিডারিটি গ্রুপ। তবে পুরো উদ্যোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে বলেও তথ্য সম্প্রচারের চেষ্টা দেখা যায়। ইসরায়েলের দাবি, তারা অস্ত্রপাচার ঠেকাতে ২০০৯ সাল থেকে নৌ অবরোধ চালু রেখেছে। এ ছাড়া ফ্লোটিলা নৌবহরের ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইসরায়েল। যদিও এর পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

/ইউআই/আরকে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না, জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প
মানচিত্রে নতুন ‘সীমান্ত’, গাজার বুক চিরে ইসরায়েলের মাটির প্রাচীর
সর্বশেষ খবর
‘দাম বাড়ানোর পর সব ঠিক হয়ে যাবে’, ৫ ঘণ্টায়ও গ্যাস না পেয়ে সিএনজিচালক  
‘দাম বাড়ানোর পর সব ঠিক হয়ে যাবে’, ৫ ঘণ্টায়ও গ্যাস না পেয়ে সিএনজিচালক  
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করছে ছাত্রদল: ডিএনসিসি প্রশাসক
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করছে ছাত্রদল: ডিএনসিসি প্রশাসক
খাবার, ক্ষোভ আর সংহতিতে গতি পাচ্ছে যন্তর মন্তরের আন্দোলন
খাবার, ক্ষোভ আর সংহতিতে গতি পাচ্ছে যন্তর মন্তরের আন্দোলন
ঢাকার ৪১৬ বছর উদযাপনে ব্যাংকগুলোর কাছে টাকা চাইলো ডিএসসিসি 
ঢাকার ৪১৬ বছর উদযাপনে ব্যাংকগুলোর কাছে টাকা চাইলো ডিএসসিসি 
সর্বাধিক পঠিত
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
চাকরি হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রেফতারে চলছে অভিযান
চাকরি হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রেফতারে চলছে অভিযান
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও