ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে বের হয়ে যাওয়া সিংহী ডেইজিকে খাঁচায় ঢোকানো হয়েছে। আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে খাঁচায় নেওয়া হয় সিংহীটিকে। কীভাবে সিংহীটি বের হয়েছে তা জানতে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
সিংহীটিকে খাঁচায় ঢোকানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হ্যাঁ, খাঁচায় ঢোকানো হয়েছে। এখন একটু হাসতে পারছি।’
এটা কীভাবে বের হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে তদন্ত না করে বলাটা কঠিন। মূলত আমরা কীভাবে ওকে রেসকিউ করবো সেটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ও যেখানে ছিল সেখানে আমরা কেউ ঢুকতে পারছিলাম না। এখন মূল বিষয় হচ্ছে ওর গেট খোলা ছিল কিনা... আমরা ডেফিনেটলি ধারণা করছি ও গেট দিয়েই বের হয়েছে। কারণ এই খাঁচাটা অনেক প্রোটেক্টেড (সুরক্ষিত) খাঁচা। গেটটা কেন খোলা থাকলো এবং কীভাবে খোলা থাকলো এই বিষয়টা আমাদের বের করতে হবে।’
এটা কবে জানা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা আনুমানিক তিন সদস্যের একটা কমিটি করে দেবো। এখনও করিনি, আমি কেবল রেসকিউ করে অফিসে এলাম।’
কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমাদের কর্মী বা দর্শনার্থী কেউ আহত হয়নি। আমরা চাইলে আরও আগেই সিংহটিকে রেসকিউ করতে পারতাম। কিন্তু সবার সেইফটি চিন্তা করে তাড়াহুড়া করা হয়নি। আমরা সময় নিয়েছি।’
কীভাবে বের হয়েছে জানতে চাইলে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. আতিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিংহটি খাঁচার ভেতরে আছে এখন। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কীভাবে বের হয়েছে সেটা আমরা পরে জানতে পারবো। যদি তালা খুলে যায়... ভুলবশত তালা খুলতে পারে। অনেক সময় তো প্রাণীরা তালা নিয়ে খেলা করে, কামড় দেয়, তখন ভেঙে যেতে পারে। আবার এমনও হতে পারে আমাদের পরিচর্যাকারী হয়তো তালা লাগাতেই ভুলে গিয়েছে। আজ এটা আসলে জানা যাবে না।’
রাত ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এ ঘটনায় সিংহটি কীভাবে খাঁচা থেকে বেরিয়ে এল তা তদন্তে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কমিটির অপর সদস্য হলেন উপপরিচালক (খামার) মো. শরিফুল হক। কমিটি তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের নিকট পেশ করবেন।
এর আগে, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে পৌনে ৫টার দিকে সিংহীটি খাঁচা থেকে বের হয়ে যায়। তবে তখন সিংহীটি প্রকাশ্যে আসেনি। সে তার খাঁচার টেরিটোরির মধ্যেই ছিল। খাবার দেওয়ার পর এনেস্থিসিয়া ইনজেকশন দিয়ে তাকে অচেতন করা হয়।









