রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ দলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান ঢাবি সাদা দলের

ঢাবি প্রতিনিধি
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫১আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী সর্বোপরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ দলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতের প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সুযোগকে অবারিত করে দিয়েছে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এমন এক দলের হাতে থাকা উচিত যাদের অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, আমরা একটি উন্নয়ন দর্শনে বিশ্বাস করি। সেই উন্নয়নে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। আমরা সেই রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও মজবুত করতে যাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। কেবল সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মুক্তিই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন, নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কেবল সামাজিক প্রয়োজন নয়, বরং অর্থনৈতিক অনিবার্যতায় পরিণত হয়েছে। আমরা সেই শক্তিকে সমর্থন করি, যারা নারীদের পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করবে। তাদের কাজের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও সম্মাজনক ব্যবস্থা তৈরি করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি হতে হবে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। কোনও দেশি বা বিদেশি শক্তির ইচ্ছা নয়, বরং জনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি। অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা কিংবা সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রেই সবার আগে বাংলাদেশ এই নীতিই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

ঢাবি সাদা দলের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, সম্প্রতি বিএনপি একটি ৩১ দফাভিত্তিক সুসংগঠিত পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে; যা রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি এই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত ‘আই হ্যাব এ প্ল্যান’ শীর্ষক রাজনৈতিক রোডম্যাপটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনায় পরিকল্পনাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই আমরা মনে করি, একমাত্র বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের আপামর জনসাধারণ তথা তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতি পুনর্গঠন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন সমাজে অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে রাষ্ট্র কোনও একক মতাদর্শের নয়, বরং সব নাগরিকের। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই জাতীয় ঐক্য বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহার কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার অঙ্গীকার নয়; এটি একটি সংস্কারভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা। ইশতেহারে নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবায় রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিফলন। আমরা মনে করি, এই নির্বাচনি ইশতেহার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি বাস্তবসম্মত, গণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর রোডম্যাপ; যা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একইসঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ নানামুখী চিন্তা ও ধারায় বিভক্ত। এই বৈচিত্রের মাঝে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হলে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন, যারা ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি হিসেবে দেখে। আমরা মনে করি, এই ভারসাম্যপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার সক্ষমতা বিএনপির মধ্যেই বিদ্যমান।

ড. আবদুস সালাম বলেন, দেশবাসীর প্রতি আমাদের আহ্বান, আসুন আমরা সবাই মিলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। জাতীয় ঐক্য, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর সম্মান ও জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ, পরিকল্পনাভিত্তিক ও জনগণনির্ভর নেতৃত্ব নির্বাচন করি। গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বার্থে সচেতন নাগরিক সিদ্ধান্তই পারে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে। বাংলাদেশের রাজনীতি হোক ভয়মুক্ত, মানবিক ও ভবিষ্যতমুখী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ড. আবদুর রশিদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এমএ কাউছার, বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক নাজমুল হাসান, অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম, অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আমিন।

/আরকে/
সম্পর্কিত
এমপি মাসুদের দম্ভোক্তির জোর কোথায়?
দুই ঘণ্টায় ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, মেজরকে চেইঞ্জ করেছি, পাওয়ারে এমপি হইছি
ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ক্ষুব্ধ সাদা দল, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সর্বশেষ খবর
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন: হিজবুল্লাহমুক্ত জোন গঠনের সিদ্ধান্ত
নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন: হিজবুল্লাহমুক্ত জোন গঠনের সিদ্ধান্ত
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম