বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ বাস্তবায়নকে সামনে রেখে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নির্দেশনা বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সভায় নবনিযুক্ত সচিব ইয়াসমীন পারভীনসহ মন্ত্রণালয় ও অধীন দফতর-সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী নবনিযুক্ত সচিবকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে নারী নির্যাতন ও মাদক রোধে কাজ করা। ধর্ষণসহ সব ধরনের নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও পণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে জয়ীতা ফাউন্ডেশনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এছাড়া কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তা জোরদার, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জেলা পর্যায়ে এর সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন। গ্রামাঞ্চলে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশুদের মানসিক বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রম জোরদার এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার উন্নয়ন এবং কেয়ারগিভিং খাতে নারী-পুরুষ উভয়ের দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সভায় তিনি আরও বলেন, কার্যকর ও বাস্তবমুখী প্রকল্প গ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।









