ড. শিরীন শারমিনের গ্রেফতার ও পরবর্তী ঘটনায় আসকের উদ্বেগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩০আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩০

সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক, হেফাজতে নেওয়া, গ্রেফতার দেখানো এবং আদালতে উপস্থাপনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংস্থাটির সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৬ এপ্রিল ধানমন্ডি এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে গিয়ে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। একজন নাগরিক, বিশেষ করে একজন নারীকে মধ্যরাতে আটক করার যৌক্তিকতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বলে উল্লেখ করে আসক। পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব ছিল কি না—তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, আদালতে উপস্থাপনের সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে তাকে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যেতে দেখা গেছে, যা অগ্রহণযোগ্য। বিচারপ্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আসকের মতে, গ্রেফতার ও হেফাজতের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ব্যত্যয় ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ২২ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬২৬ জন ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই তালিকায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তার অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় বিষয়টি জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দেয় বলে উল্লেখ করা হয়।

আসক মনে করে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ সাংবিধানিকভাবে নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষায় দায়বদ্ধ। জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

/জেইউ/এমএএল/
সম্পর্কিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শন-নেত্রকোনায় বাউল গান বন্ধের ঘটনায় আসকের নিন্দা
আসকের নতুন সেক্রেটারি জেনারেল নাজিয়া কবির
শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসকের উদ্বেগ
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম