শিশুরাই পর্নোগ্রাফির শিকার, তারাই আবার এতে আসক্ত

শাহানা হুদা রঞ্জনা
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০

শিশুকে যুক্ত করে পর্নোগ্রাফি তৈরিতে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম—উদ্বেগজনক এই তথ্যটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু সত্য। শিশুদের দিয়ে যৌনদৃশ্যে অভিনয় করানো, তাদের যৌন নিপীড়নের ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং এসব আদান-প্রদানের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) ২০২০ সালে এই তথ্য জানিয়েছে। এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অথচ শিশুরা ইন্টারনেটে কী দেখছে, কী জানছে—এ-সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্যই অভিভাবকরা জানতে পারছেন না। ইন্টারনেট ব্যবহার, এর নিরাপত্তা, সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে অধিকাংশ অভিভাবকের ধারণা তাদের টিনএজ বাচ্চাদের চাইতে, এমনকি শিশুদের চাইতেও কম। আর এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এরকমই আরেকটি ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, দেশের ৩৪ শতাংশ শিশু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, এদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখে। পর্নোগ্রাফি দেখা শিশুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ দেখে বন্ধু অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় এবং ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ দেখে নিজেদের বাসায়। (সূত্র: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইনসিডিন বাংলাদেশ, ২০২৩)

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের উপকারিতা ও বিপদ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। ভার্চুয়াল জগতের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকলেও এর অন্ধকার দিকও রয়েছে। অনলাইনে শিশুর সাইবার বুলিং, যৌন নিপীড়ন, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়া ও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সমাজে পর্নোগ্রাফি দেখার হার খুব বেড়ে গেলেও, এখনো এটি একটি ট্যাবু থেকে গেছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে ও সমাজে আলোচনা হয় না বললেই চলে। ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে একদিকে ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে, অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের গড় বয়স কমছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পর্নোসাইটগুলোতে যাওয়ার পরিমাণ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর একটি বড় কারণ ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন অ্যাপ ও প্রযুক্তির ব্যাপক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

খুব সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে।

মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা এবং আসক্তি তৈরিকারী ফিচার যুক্ত রাখা। নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতিকর ও যৌন উদ্দীপক কনটেন্টের দিকে ধাবিত করা। প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নিপীড়ন ও অপব্যবহারের ঝুঁকি জানার পরও তা জনগণের কাছে গোপন করা।

জরিমানার পাশাপাশি আদালত মেটাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য স্ক্রিন টাইম বা ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ এবং বড়দের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর সুরক্ষাকবচ যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো নজরদারি নেই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যেখানে শুধু যৌন আনন্দের জন্য পর্নোগ্রাফি দেখে, শিশুদের বিষয়টি ঠিক তা নয়। তারা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঘাঁটতে গিয়ে বা অন্য কোনো কিছু, যেমন কার্টুন, সিনেমা, গেম, অ্যানিমেশন ফিল্ম বা পড়াশোনা করার সময় তথ্য ও ছবি দেখতে গিয়ে, হঠাৎ করে পর্নো অ্যাপে ঢুকে পড়ে।

এরপর সেই স্টোর থেকে অনবরত ছবি, তথ্য, খেলা—এসব আসতে শুরু করে সেই শিশুর কাছে। একবার যদি শিশুরা এই নিষিদ্ধ জিনিস দেখতে শুরু করে, তখন সেটা তাদের নেশা হয়ে যেতেও সময় লাগে না। অর্থাৎ তখন শিশু-কিশোররা বাবা-মা ও অভিভাবকদের চোখ এড়িয়ে গোপনে এই চর্চা চালাতে থাকে।

শিশুরা কেন এবং কীভাবে পর্নোগ্রাফির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে—এর সহজ কোনো একক উত্তর নেই। তবে এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, ‘শারীরিক পরিবর্তন এবং বন্ধু-বান্ধবের কারণে শিশু-কিশোররা পর্নোগ্রাফি দেখায় আসক্ত হচ্ছে। এগুলো দেখে একপর্যায়ে তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে। তখন তারা বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করে যৌন আকাঙ্ক্ষা মেটানোর চেষ্টা করছে। যখন তারা ব্যর্থ হচ্ছে, তখন জোরপূর্বক চেষ্টা করছে। ধর্ষণ, ইভটিজিং, যৌন নিপীড়নের মতো কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বর্তমানে ইউটিউব বা টিকটকে অনেক প্রি-সেক্সুয়াল কনটেন্ট দেখা যায়। এসব কনটেন্টে নগ্নতা না থাকলেও এগুলো যৌন সুড়সুড়ি বা যৌন উন্মাদনা তৈরি করে।’

উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক শিশু বুঝতে পারে না যে তারা ধীরে ধীরে একটি বিপজ্জনক ফাঁদে পা দিচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক অভিভাবকও বুঝে উঠতে পারেন না, কীভাবে তাদের সন্তান প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপদগ্রস্ত হতে পারে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের শিশুরা অনলাইনে উৎপীড়ন ও হয়রানিসহ আরও নানা ধরনের বিপদের হুমকির মধ্যে আছে।

অভিভাবকদের বুঝতে হবে কীভাবে এই সমস্যার শুরু হচ্ছে। ‘শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাব বা কম্পিউটারে ব্যয় করছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।’ (আইসিডিডিআর, বি)

আজকালকার শিশুরা ২ থেকে ৩ বছর বয়স থেকেই ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন কিছু দেখছে। অভিভাবকরা এগুলো দেখতে বাধা দেন না, বরং দেখার জন্য উৎসাহিত করেন। এতে শিশুরা ব্যস্ত থাকে এবং বাবা-মাকে বিরক্ত করে না, এবং শিশুকে যথেষ্ট সময়ও দিতে হয় না। এইভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো রকম নিয়ম-কানুন ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অনলাইনে থেকে শিশুরা বিভিন্ন ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

একটা পর্যায়ে অভিভাবকরা চাইলেও শিশুদের সেই পথ থেকে আর সরাতে পারেন না। তাছাড়া স্কুল ও কলেজে সহপাঠীদের কাছ থেকেও শিশু-কিশোররা বিভিন্ন আজেবাজে লিংকের খোঁজ পায় এবং নিজেরা সেই তথ্য আদান-প্রদান করে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে শিশুর সক্ষমতা যতটা বেশি, অন্যদিকে অভিভাবকের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা ও অসচেতনতা ততটাই বেশি। সেই সুযোগে সন্তান মা-বাবাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। শিশুরা প্রতিদিন অনলাইনে যে গড়ে ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে, সেই সময়টায় তারা কী করছে, কী দেখছে—তা অভিভাবকরা কি জানেন?

অনলাইনে ৩১ শতাংশ শিশু যৌনতাবিষয়ক বার্তা, ছবি, ভিডিও পেয়েছে, অথচ বাবা-মায়েরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না, জানেন না অনলাইনে কী ধরনের বিষয়বস্তু রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি কী। ফলে তারা সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিকভাবে নজরদারি বা দিকনির্দেশনা দিতে পারেন না। এমনকি শিক্ষিত ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অভিভাবকদের পক্ষেও সবসময় সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সহজ নয়।

পর্নোগ্রাফির জগৎটা অনেক বড়। এর ডালপালাও মাকড়সার জালের মতো নানা ধরনের চেহারা নিয়ে চারদিকে বিস্তৃত। কাজেই এই মাকড়সার জালে কোন শিশু, কীভাবে ধরা পড়বে, তা অভিভাবকদের জন্য বোঝাটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য এই জগত যতটা খোলা ও নাগালের মধ্যে, শিশুর জন্য ঠিক ততটাই খোলা বা নাগালের মধ্যে।

শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পর্নোগ্রাফি শিশুদের যৌনবিষয়ক বিকৃত চিন্তা ও ধারণা তৈরি করে। বাংলাদেশে যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষামূলক কিছু নেই। তাই শিশুরা ভিডিওতে যা দেখে, স্বাভাবিক জীবনকেও সেটা মনে করে। তাদের মধ্যে সেক্সুয়াল ক্রাইম করার প্রবণতা বেড়ে যায়। অনেক সময় তারা না জেনেই নিজেদের এসব ক্রাইমের দিকে ঠেলে দেয়।

শিশুকেন্দ্রিক পর্নোগ্রাফি ব্যবসা দুনিয়াজুড়েই ব্যাপক লাভজনক। শিশু-কিশোর ও যুবকদের কাছে পর্নোগ্রাফি নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় অপহরণকারীরা শিশু-কিশোরকে অপহরণ করে ও আটকে রেখে এই কাজ করতে বাধ্য করে।

এছাড়া বন্ধুত্বের নামে যৌন কর্মকাণ্ড রেকর্ড করে পর্নো নির্মাতারা শিশু-কিশোরদের ব্ল্যাকমেইল করে। কিশোরী-তরুণীরা তাদের ছেলে বন্ধু অথবা প্রেমিক বা প্রেমিকের বন্ধুদের দ্বারা ফাঁদে পড়ে এবং ব্যবহৃত হয়। অজ্ঞতার কারণেও অনেকে জড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপনচিত্র, অডিও-ভিডিও চিত্র নির্মাতা, সিনেমা ও নাট্য জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারও কারও ভূমিকা আছে শিশু-কিশোরদের এই জগতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে। এই কাজে জড়িত থাকার জন্য বাংলাদেশে কয়েকজনকে ধরাও হয়েছে। যারা কনটেন্ট তৈরি করছে, তারা দিনে দিনে অনেক কৌশলী হয়ে উঠছে। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি, মেকানিজম।

স্মার্টফোন দিয়ে কোনো কোনো ছেলেমেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার চিত্র ভিডিও করে। পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা অ্যাডভেঞ্চার করার জন্য নিজেরাই ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশে শিশু পর্নোগ্রাফি বা তাদের যৌন নিপীড়ন নিয়ে যে কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইটেই সেগুলো দেখা যায়।

একসময় পর্নোগ্রাফি সীমাবদ্ধ ছিল নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের রিলস ও শর্ট ভিডিওতে সফট পর্নো ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিদিন। একবার কেউ এ ধরনের ভিডিও দেখলে আরও একই কনটেন্ট পরপর সামনে আসতে থাকে, এটাই অ্যালগরিদম। বারবার মন্দ কনটেন্ট দেখলে মস্তিষ্ক সেটাকে স্বাভাবিক ধরে নেয়। এরপর ব্যবহারকারী আরও বেশি মন্দ কনটেন্টের দিকে ঝুঁকতে থাকে।

বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পর্নোগ্রাফির চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি পর্নো ভিডিও মানুষ বেশি দেখছে। এই ভিডিওগুলোতে অভিনেতা ও অভিনেত্রী হিসেবে ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদেরই বেশি দেখা যাচ্ছে। পর্নোগ্রাফির জগতে শিশুরা ভোক্তা হওয়ার পাশাপাশি পণ্যেও পরিণত হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এস এম ইমরান হোসেন।

বাংলাদেশে এখন অনেক পর্নোগ্রাফি নির্মাণ করা হচ্ছে, তবে সেগুলোর মান আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফির মানের চেয়ে খুব নিম্ন ও কুরুচিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এসব কনটেন্টের দর্শক হিসেবে আছে শিশু-কিশোর। বাংলাদেশে শিশু পর্নোগ্রাফির কোনো বাণিজ্যিক বাজার না থাকলেও, শিশুদের ব্যবহার করে তৈরি করা আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় রয়েছে আন্তর্জাতিক চক্র।

শিশুরা যখন অনলাইনে থাকে, তখন অবশ্যই অভিভাবকদের বিষয়টি নজরদারিতে রাখা উচিত। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইন সহিংসতার মতো বিপদের মুখে আছে। ১৯ শতাংশ শিশু ইন্টারনেটের অপর প্রান্তের ব্যক্তির কাছ থেকে যৌনতাবিষয়ক অযাচিত বার্তা পেয়েছে। ১২ শতাংশ যৌনতাবিষয়ক ছবি বা ভিডিও পেয়েছে। ৫ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের নগ্ন বা অর্ধনগ্ন ছবি-ভিডিও পাঠানোর জন্য জোরজবরদস্তি করা হয়েছে। ৫৭ শতাংশ জানিয়েছে, ইন্টারনেটে অচেনা ব্যক্তিকে বন্ধু বানাচ্ছে। (ইউনিসেফ, ২০১৯)

একটি গবেষণা বলছে, এ দেশের কিছু নাটক, ওয়েব সিরিজ, ওয়াজ ও বাংলা সিনেমা সেক্সিজম ও নারীবিদ্বেষকে সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে। দেশীয় পর্নোগ্রাফির কনটেন্ট প্রচারে কোনো বিধিনিষেধ নেই বলে, প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি সহজে তা শিশুর হাতেও পৌঁছে যাচ্ছে।

ভয়ের ব্যাপার হলো, অসংখ্য কিশোর-কিশোরী এসব পর্নোগ্রাফির দর্শক। কিশোরীরাও এই অনলাইন পর্নোগ্রাফি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে ও টাকা আয় করছে। অনলাইনে অ্যাডাল্ট মুভি, ন্যুডিটি, পর্নোগ্রাফি কিশোরসহ শতকরা ৭৫ জন ছেলে দেখে।

সাইবার অপরাধের ধরনে বদল দেখা দিয়েছে এবং বেশি ঝুঁকিতে আছেন নারী ও শিশুরা। সারাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠছে, যারা ফাঁদে ফেলে শিশু ও নারীদের নিয়ে ব্যবসা করছে। (সূত্র: সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন, ২০২৩ ও সিআইডি)

টিকটক, লাইকির মতো অ্যাপগুলো নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এ ব্যাপারে সমাজের সবার সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য ইন্টারনেট কানেকশন নেওয়ার সময় ‘প্যারেন্টাল গাইড’টি অভিভাবকদেরও পড়া উচিত। সন্তানকে রক্ষা করার জন্য শিশু-কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করতে হবে। প্রযুক্তি বন্ধ করা অসম্ভব, তাই চেষ্টা করতে হবে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্নোগ্রাফির সহজপ্রাপ্যতা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দের তালিকা করে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। ফলে শিশুরা এসব শব্দ লিখে সার্চ করলেও কিছু পাবে না।

বাবা-মায়ের প্রতি পরামর্শ হচ্ছে, শিশুরা ব্যবহার করছে এমন ডিভাইসে কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা সন্তানের অশ্লীল সাইটে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে পারেন। অভিভাবকদের অবশ্যই সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাদের সঙ্গে গল্প করার মাধ্যমে বুঝিয়ে বলতে হবে প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দিকগুলো।

লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট

/ইউএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭
‘স্বাধীনতার বীজ যেখানে বপন হয়েছে, সেই বাড়িটা কেন দেখতে পারবো না?’
‘স্বাধীনতার বীজ যেখানে বপন হয়েছে, সেই বাড়িটা কেন দেখতে পারবো না?’
সমাজতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে, ভ্যান্সের সতর্কবার্তা
সমাজতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে, ভ্যান্সের সতর্কবার্তা
৩২ এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যুবলীগকর্মী আটক
৩২ এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যুবলীগকর্মী আটক
সর্বশেষসর্বাধিক