এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরলো ৬২২ প্রাণ

বাংলা ট্রিবিউন রি‌পোর্ট
১৩ জুন ২০২৬, ১৪:০২ আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১৪:০২

গত মে মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হন।

এছাড়া নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

সংগঠনটির দাবি, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়া অনেক দুর্ঘটনার তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি অংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। মাসজুড়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হন।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৯৩ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু এবং ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন ও আলোর অভাব, নির্মাণ ত্রুটি, যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর মতো কারণগুলো দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়া বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টি, ভাঙাচোরা সড়ক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু, চালকদের দক্ষতা উন্নয়ন, মহাসড়কে নিরাপদ পথচারী পারাপার নিশ্চিত করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং পরিবহন খাতে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা।

 

/এসএন‌কে/এমএএল/
সম্পর্কিত
ঘুরতে গিয়ে শেষ এক পরিবার: বাবা-মা ও দুই মেয়েকে পাশাপাশি কবরে দাফন
সম্পর্কে ছিল তিক্ততা, সেই মায়ের মৃত্যুর পর যা বললেন পপি
জিডি করেও বাঁচতে পারেনি ছাত্রদল নেতা, প্রত্যাহার থানার ওসি
সর্বশেষ খবর
জাহাঙ্গীরনগরে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১০ জানুয়ারি, হচ্ছে না বিভাগীয় পর্যায়ে
জাহাঙ্গীরনগরে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১০ জানুয়ারি, হচ্ছে না বিভাগীয় পর্যায়ে
সাজেকে সপ্তম দিনে অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে স্থানীয়রা
সাজেকে সপ্তম দিনে অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে স্থানীয়রা
জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, দেশ কোন পথে?
জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, দেশ কোন পথে?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কাতারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কাতারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো ইরান
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল