রাজধানীর ধানমন্ডি ও বাড্ডা এলাকায় পৃথকভাবে ভবন থেকে পড়ে দুই নারী মারা গেছেন। তারা হলেন, আসমা আক্তার (৩০) ও মনিকা আক্তার (২৭)।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুলি মন্ডল পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৩টার দিকে আসমা আক্তার (৩০) বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালে অষ্টম তলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে মারা যান। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ লাইনে সংবাদ পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।
নিহতের ছোট বোন রেশমি আক্তার জানন, তিন বছর আগে সম্পর্কের মাধ্যমে শাফিউল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় আসমার। শাফিউল্লাহর আগের ঘরেও স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে আসমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতো শাফিউল্লাহ। গত তিন দিন আগে আসমার স্বামী পেটব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। শুক্রবার তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।
রেশমির অভিযোগ, ওইদিন বিকালে হয়তো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও বিষয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাফিউল্লাহর ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় আসমাকে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আসমার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচণা মামলা করা হয়েছে। তাকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আফতাবনগরের ই-ব্লকের একটি বাসার সামনে থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মনিকা মানসিক হতাশাগ্রস্ততা থেকে ওইদিন বিকালে আট তালা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তদন্ত সাপেক্ষে ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।
নিহতের চাচাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, মনিকা আক্তারের মানসিক সমস্যা ছিল। ওই ভবনের নিচ তলায় পরিবারসহ থাকতেন। ঘটনার আগের দিন তার স্বামী লিটন মিয়া জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামে বাড়ি যান।









