সাবেক মেজর জিয়াউলের কিলিং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ জুন ২০২৬, ১৭:০২আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১৮:২৯

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কিলিং নেটওয়ার্ক ছিল ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে। এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে রবিবার (২১ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ‍্য দেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন একজন সেনা কর্মকর্তা। তার জবানবন্দি এখনও চলমান রয়েছে। তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন। অর্থাৎ র‍্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। জাফলংয়ে যাওয়ার পর আরও দুজন আসামিকে নিয়ে আসেন ভারত থেকে আসা সাদা পোশাকের কিছু লোকজন। এরপর এসব আসামিকে বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।

সাক্ষীর বিবরণী তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তায় মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেন জিয়াউল আহসান। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো নিয়ে আসতেন। তারা কোনও দলের বা কোনও বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যকে ধরে এনে দুটো পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন জিয়াউল আহসান। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি ঠেকিয়ে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন সাক্ষী।

এর আগে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তারই এক সময়কার রানার সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

/বিআই/আরকে/
সম্পর্কিত
‘সাদ্দাম-ইনানকে ফোন করে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের’
হাছান-নওফেল-ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি
সর্বশেষ খবর
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ
মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধে ব্যর্থ
মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধে ব্যর্থ
‘এমন অভ্যর্থনা আমি কখনোই আশা করিনি, আমি এখানে জিততে এসেছি’
‘এমন অভ্যর্থনা আমি কখনোই আশা করিনি, আমি এখানে জিততে এসেছি’
সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৮ জনের
সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৮ জনের
সর্বাধিক পঠিত
মিটার একবার, ভাড়া ও চার্জ আজীবন
মিটার একবার, ভাড়া ও চার্জ আজীবন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানে মুখরিত সচিবালয় এলাকা 
‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানে মুখরিত সচিবালয় এলাকা