দেশের ১০ লাখ পরিবারের জরুরি কৃষি সহায়তা প্রয়োজন: এফএও

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৮আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৮

বন্যা, জলাবদ্ধতা, কৃষি উপকরণ ও খাদ্যের বাড়তি দামের চাপে দেশের কৃষি খাতে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, চলতি বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের প্রায় ১০ লাখ কৃষি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জরুরি কৃষি সহায়তার সহায়তার প্রয়োজন হবে।

এই সংখ্যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এফএওর করা হিসাবের তুলনায় ২ লাখ বেশি। আর ক্ষুদ্র পরিসরে কৃষি উৎপাদনকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এফএওর জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের ১৪তম পর্যায়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে কৃষি সহায়তার প্রয়োজন নির্ধারণে করা এই মূল্যায়নটি চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ৬ হাজার ১৪৩টি পরিবারের সঙ্গে কম্পিউটার চালিত টেলিফোন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।

কৃষি সহায়তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবারের সর্বোচ্চ অংশ পাওয়া গেছে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে।

এই হিসাব করা হয়েছে এমন কৃষি পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করার ভিত্তিতে, যারা একই সময়ে অর্থনৈতিক, ব্যক্তিগত, কৃষিসংক্রান্ত ও প্রাকৃতিক— বিভিন্ন ধরনের প্রাসঙ্গিক সংকট বা দুর্যোগের শিকার হয়েছে; তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে এবং কৃষি সহায়তার প্রয়োজনের কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ৮৪ শতাংশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংস্পর্শে আসা পরিবারের হার ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের পর্যায়ের তুলনায় ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। এফএও জানিয়েছে, প্রতি তিনটি পরিবারের মধ্যে দুটি বলেছে, তারা বাকিতে খাদ্য কিনেছে।

এদিকে, ৬৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় কমিয়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার চলতি মৌসুমের ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ— বীজ ও সার কেনার ব্যয় কমিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ সহায়তার আবেদন করা পরিবারের হার উদ্বেগজনকভাবে ৪১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। ১৩তম পর্যায়ের জরিপে এই হার ছিল ১৬ শতাংশ, যা ১৪তম পর্যায়ে বেড়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

নদী ব্যবস্থা, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় সহায়তার প্রয়োজন আরও বেশি দেখা গেছে। বর্ষা মৌসুম তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকির বিষয়টি এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এফএও বলেছে, বর্ষার বন্যা, খাদ্যের মূল্যস্ফীতি এবং আয় কমে যাওয়া– এই তিনটি বিষয় একই সময়ে পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করায় কৃষি সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে।

ফসল উৎপাদনের সমস্যার হার আগের পর্যায়ের মতোই রয়েছে। উভয় পর্যায়ের জরিপেই প্রায় অর্ধেক ফসল উৎপাদনকারী পরিবার উৎপাদন সমস্যার কথা জানিয়েছে।

উৎপাদন সমস্যার কথা জানানো ফসল উৎপাদনকারী পরিবারগুলোর মধ্যে জমিতে অতিরিক্ত পানি, ফসলের রোগ এবং সারের অভাব ছিল প্রধান সমস্যাগুলো।

অন্যদিকে, মূলত ফসলের কম দামের কারণে ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়া পরিবারের হারও আগের পর্যায়ের জরিপের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে, ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছে।

এদিকে, আগের পর্যায়ের তুলনায় পশুপালনকারী পরিবারগুলোর পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। তবে পশুর রোগ এবং খাদ্যের ব্যয় এখনও বেশি রয়েছে। সমস্যার মুখে থাকা পশুপালনকারীদের মধ্যে যথাক্রমে ৯১ শতাংশ ও ১৭ শতাংশ এসব সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

এফএও আমন চাষের মৌসুম শুরুর আগে মৌসুমের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি উপকরণ সরবরাহের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর পাশাপাশি নগদ সহায়তা, পশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেওয়ারও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

/আরকে/
সম্পর্কিত
সারের বরাদ্দে ফাঁকি, বিতরণে বৈষম্য‘সারের জন্য ঘুরতে ঘুরতে জান শ্যাষ’ বলছেন কৃষক, তবু ঘাটতি বলতে নারাজ কৃষি বিভাগ
দেশে সারের সংকট নেই, দুষ্টু লোকদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক: কৃষিমন্ত্রী
সারের দাবিতে বিক্ষোভ: ‘এখন গ্রেফতারের ভয়ে পালায় থাকতেছে কৃষকরা’
সর্বশেষ খবর
পুলিশের হস্তক্ষেপে লন্ডনে বিজয়ের অনুষ্ঠান বাতিল
পুলিশের হস্তক্ষেপে লন্ডনে বিজয়ের অনুষ্ঠান বাতিল
‘আমি ডিলার, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’
‘আমি ডিলার, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’
জাপান গেলেন সেনাপ্রধান
জাপান গেলেন সেনাপ্রধান
ইরান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বার প্রস্তাব পাস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে
ইরান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বার প্রস্তাব পাস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে
সর্বাধিক পঠিত
প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম পুনরুদ্ধার, দুঃখ প্রকাশ বিদ্যুৎ বিভাগের
প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম পুনরুদ্ধার, দুঃখ প্রকাশ বিদ্যুৎ বিভাগের
সভা চলাকালে বারবার ফোনে কথা বলায় সিভিল সার্জনের ওপর অসন্তুষ্ট আইনমন্ত্রী
সভা চলাকালে বারবার ফোনে কথা বলায় সিভিল সার্জনের ওপর অসন্তুষ্ট আইনমন্ত্রী
একদিনের ছুটি নিতে পারলেই একটানা মিলবে ৫ দিনের ছুটি
একদিনের ছুটি নিতে পারলেই একটানা মিলবে ৫ দিনের ছুটি
দুই ডোজেই উধাও ৩ বছরের শিশুর ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার
দুই ডোজেই উধাও ৩ বছরের শিশুর ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার
‘অসুস্থ মেয়েকে দেখতে’ আত্মগোপন থেকে বাসায়, জেলা যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার 
‘অসুস্থ মেয়েকে দেখতে’ আত্মগোপন থেকে বাসায়, জেলা যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার