নিরাপদ পানি, সম্মানজনক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস প্রসারে চার দশকের পথচলা উদযাপন করছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে মানুষের জীবন বদলের গল্প নিয়ে শুরু হয়েছে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শীর্ষক আলোকচিত্রের প্রদর্শনী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশে (আইএবি) শুরু হয়েছে এই আয়োজন। ৪০ বছর পূর্তিতে মানুষের জীবন বদলের গল্প নিয়ে ৪০টি আলোকচিত্রের প্রদর্শনী শুরু হয়।
এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হাসিন জাহান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরীসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সহযোগী ও দাতা সংস্থা, সাবেক কর্মী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি আয়োজনে রয়েছে সহযোগী সংগঠনগুলোর কাজের প্রদর্শন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের স্বীকৃতি, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ট্যুর এবং অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সুযোগ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনতে পারে, এসবের মধ্য দিয়ে তা তুলে ধরা হচ্ছে। জানানো হয়, প্রদর্শনীটি শনিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসিন জাহান বলেন, বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের ৪০ বছর উদযাপনের এই মুহূর্তে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও গর্ব অনুভব করছি।
তিনি আরও বলেন, নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও নেতৃত্ব আমাদের কাজকে পথ দেখিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। এই সম্মিলিত অর্জনকে সম্মান জানিয়ে আমরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু ভবিষ্যৎ গড়ার এবং সবার পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নবায়ন করছি। এই পথচলার অংশ হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। সাহস, নিষ্ঠা ও আশা নিয়ে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই।
আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের চার দশক নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা এবং সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করার গল্প। এই অগ্রযাত্রায় যারা অবদান রেখেছেন, এই আয়োজন তাদের সবার প্রতি সম্মান জানানোর উপলক্ষ। বিশেষ করে নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আমাদের কাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানুষের প্রয়োজনের প্রতি আরও সাড়া দিতে সক্ষম করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই পথচলা উদ্যাপনের সঙ্গে সঙ্গে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির পক্ষে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও আমরা নবায়ন করছি। সবার জন্য, সবখানে নিরাপদ ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই মাইলফলক নতুন উদ্যম, সাহস ও আশা নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে কাজ শুরু করে ওয়াটারএইড। এরপর থেকে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহিষ্ণু সমাধান প্রসারে সহায়তা করে আসছে ওয়াটারএইড।