মানুষের আত্ম-উন্নয়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম স্বশিক্ষা। আর এই স্বশিক্ষার অন্যতম বাহক হলো বই। জ্ঞান পিপাসু মানুষের জন্য এই বই-ই যেন খাদ্য। একটি বই শেষ করার পর আরেকটি বই হাতে না থাকলে যেন প্রচণ্ড জ্ঞান ক্ষুধায় ভোগেন তারা।
আর তাদের জন্য একটি প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা। এই মেলায় শুধু জ্ঞান পিপাসুরাই নয়, আসেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। আসেন শিশু,কিশোর, যুবক,বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ। কেউ দেখতে, কেউ কিনতে, কেউ প্রাণের খোরাকের সন্ধানে।
কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধীরা! যারা পায়ে হাঁটতে পারেন না! তাদের জন্য কে ভাববে? কে দেখাবে তাদের প্রাণের বই মেলা ঘুরিয়ে? তারা প্রাণের তৃষ্ণা মেটাবে কী করে?
হ্যাঁ, তাদের কথা চিন্তা করেই ‘সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন' গত ছয় বছর ধরে বইমেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পাশে রয়েছে। সংগঠনটির কর্মীরা হুইল চেয়ারে করে শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষদের ঘুরিয়ে দেখান বইমেলা। মেটান তাদের প্রাণের চাওয়া।
রবিবার (২১ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা সেবা শুরু হয়। তারা সেবা দেওয়ার জন্য মেলার দুই প্রান্ত টিএসসি এবং দোয়েল চত্বরে মোট ২০টি হুইল চোয়ার রেখেছে। প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই চেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন প্রতিবন্ধীরা। এবারের মেলায় নতুন যুক্ত হয়েছে শিশুদের জন্য হুইল চেয়ার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বুয়েট), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে সংগঠন সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।
২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে সংগঠনটি। যেমন- পথ শিশুদের শিক্ষা দান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ইত্যাদি।
সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবী। এদের মধ্যে রয়েছেন একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও। সংগঠনটির রয়েছে সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য দুটি স্কুল।
সুইচ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম বলেন,‘আমরা অনেকগুলো সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে আছি। সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আমাদের দুইটি স্কুল আছে, যার একটি প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। আরেকটি এই করোনাকালে আমরা চালু করেছি। যেটি গাবতলী দীপনগরে, সেখানে প্রায় একহাজার শিক্ষার্থী আছে। এর আগে আমরা বইমেলায় পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছি। তখন আমরা বাংলা একাডেমির সঙ্গে আলোচনা করে যারা হাঁটতে পারে না, বয়স্ক ভাষা সৈনিকরা যারা এখনও বেঁচে আছেন, অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যারা আছেন, তাদের ভাষার প্রতি টান আছে। অনেকে অনেক প্রতিবন্ধকতার কারণে মেলায় আসতে পারেন না। তাদের কথা চিন্তা করে আমরা এ সেবা দিয়ে আসছি।’









