শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পা পড়েছে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তারা। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে শ্রদ্ধার ফুল পদদলিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সর্বসাধারণের জন্য উন্মু্ক্ত হয় বেদি। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান শহীদদের স্মরণে ফুল নিয়ে এসেছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের প্রবেশপথে কোনও শৃঙ্খলা নেই। মানুষ দলবেঁধে বের হচ্ছেন। কখনও প্রবেশ করতে কিংবা বের হতে গিয়ে জটলা বেঁধেছে।
মিরপুর স্মৃতিসৌধের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বেদি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে তৎপরতা তেমন একটা চোখে পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার কারণে বেদিতে থাকা ফুল টেনে-ছিড়ে নিয়ে যায় অনেকে। সেই ফুল পরে পদপিষ্ট হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেহানা পারভীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছি। শহীদ মিনার এবং সাভার স্মৃতিসৌধের তুলনায় এখানে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলা বেশি মনে হলো। চারপাশে যেমন ভাবগাম্ভীর্য ও পরিবেশ দরকার তা এখানে নেই।’
স্কুলশিক্ষক জাফর আহমেদের বর্ণনায়, ‘বেদির চারপাশে ফুল পড়ে আছে, সবার জুতার নিচে পিষ্ট হচ্ছে সেসব। পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও শ্রদ্ধাবোধ নেই, সবই যেন লোকদেখানো। যাদের নজরদারি করার কথা তাদের বুটের নিচেও শ্রদ্ধার ফুল পদপিষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতি কিন্তু শহীদ মিনারে হয় না। সেখানে ফুল সাজিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়।’









