X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

উন্নয়ন চায় নারায়ণগঞ্জবাসী  

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৪৩

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কয়েকদিন পরেই ভোটের লড়াই। তাই শহরে এখন সিটি নির্বাচনের উত্তাপ। মেয়রসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। তবে তারা কোন দলের তা দেখছেন না নারায়ণগঞ্জের মানুষ। তাদের দৃষ্টিতে, উন্নয়নে অন্যান্য অঞ্চল থেকে নারায়ণগঞ্জ পিছিয়ে আছে এবং কিছুটা অবহেলিত। ঢাকার খুব কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের সিটি করপোরেশনের মেয়র যিনি হবেন, তার কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধুই উন্নয়ন। নারায়ণগঞ্জ ঘুরে বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই অভিমত পাওয়া গেছে।

এবারের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী আছেন ছয় জন। তারা হলেন– আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রার্থী মো. রাশেল ফেরদৌস।

নারায়ণগঞ্জ শহর ঘুরে দেখা যায়, নিম্ন-আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সব পেশাজীবীর মধ্যে সিটি নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল। প্রার্থীদের প্রচারণা আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন সাধারণ মানুষ। তবে ভোট দিয়েই নিজ নগরের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চান তারা। সেই সঙ্গে আছে দীর্ঘদিনের দাবি– নারায়ণগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিছন্ন নগরী।

নারায়ণগঞ্জের চাষারা মোড়ে কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা হয়। রিকশাচালক নুরুদ্দিনের মতে– যিনিই মেয়র নির্বাচিত হোক না কেন, শহরের চেহারা যে পাল্টাতে পারবেন তিনিই আসল কারিগর।

অটোচালক কাওসার জানান, ভোটের মাঠে কোনও কিছু আগে থেকে নির্ধারিত করা যায় না। তবে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র শহরটাকে ঠিক করবেন– এই প্রত্যাশা আছে।

ব্যবসায়ীরা ভাবছেন অন্যভাবে। তাদের চাওয়া ব্যবসাবান্ধব নগর। সেজন্যও প্রয়োজন উন্নয়ন। নিতাইগঞ্জ পাইকারি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের ৬৪ জেলার মানুষ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে। আমি মনে করি– ক্ষমতার লড়াই না, এখানে সেবা করার জন্য লড়াই হওয়া উচিত। প্রার্থীদের ভাবনায় থাকতে হবে, কে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং কে মানুষকে সেবা দেবেন। নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ শহর হয়েও অবহেলিত। উন্নয়নের দিক দিয়ে আমরা অনেক জেলা থেকে পেছনে। এখানকার মানুষ দুই পাড়ের মাঝে একটা সেতু চায়, যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এছাড়া আমাদের নদীর পাড় ঘেঁষে কয়লাঘাট থেকে কাচপুর সেতু পর্যন্ত একটি রাস্তা প্রয়োজন। এটা আমাদের ব্যবসায়ী মহলের দাবি। তাহলেই ব্যবসাবান্ধব একটি নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা যাবে।’

স্কুল শিক্ষিকা লায়লা ইয়াসমিন চান নারী ও শিশুবান্ধব নগরী। নারীদের নিরাপত্তার দিকে জোর দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার কথায়, ‘নারী হিসেবে আমি চাই শহরের নিরাপত্তা বাড়ুক। আমাদের এখানে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা অনেক। নারীরা নিরাপদে কাজে গিয়ে দিন শেষে বাসায় ফিরে আসুক, এটাই একজন নারী হিসেবে আমার চাওয়া। তাই যিনি মেয়র হবেন তার কাছে প্রত্যাশা, তিনি যেন নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেন।’

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে থমকে আছে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। অথচ নারায়ণগঞ্জ একটি সমৃদ্ধ জেলা হয়েও আমরা অত্যন্ত অবহেলিত। নারায়ণগঞ্জ শহরে জ্যামের অভিশাপ নেমে এসেছে। মানুষ চলতে পারে না, বের হতে পারে না। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের দিকে তাকাবেন এবং এই শহরের মানুষকে জ্যাম থেকে মুক্ত করবেন।’

খন্দকার শাহ আলমের মন্তব্য, ‘এই শহরের মেয়র ও সংসদ সদস্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে নারায়ণগঞ্জ অনেক এগিয়ে যেত। যেসব সমস্যা নারায়ণগঞ্জে আছে, সেগুলো থাকতো না। শীতলক্ষ্যা নদীতে আমরা আগে সাঁতার কাটতাম, এখন দুর্গন্ধে কেউ হাত দিয়ে পানি ছুয়েও দেখে না। শিল্প-কারখানাগুলোর জন্য এই নদীর পানির আজ এই দুরবস্থা। শোধনাগার থাকলেও কেউ তা ব্যবহার করছেন না। সরাসরি কেমিক্যাল ফেলা হচ্ছে নদীতে। এদিকে কারও দৃষ্টি নেই। যাদের কারণে নদী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।’

/জেএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ভাড়া নিয়ে বিতর্কে রিকশাচালকের আঘাতে পুলিশসহ আহত ৪
ভাড়া নিয়ে বিতর্কে রিকশাচালকের আঘাতে পুলিশসহ আহত ৪
১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ৫৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবায় বাস্তবায়ন ৩৯ শতাংশ
১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ৫৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবায় বাস্তবায়ন ৩৯ শতাংশ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দায়ী করছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীরা
দল বদলের হিড়িককেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দায়ী করছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীরা
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত