শৈত্যপ্রবাহ এখন আর কোনও এলাকায় নেই। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আজ বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই আকাশের মুখ গোমড়া। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আকাশ মেঘলা, বৃষ্টির আশংকা আছে। এদিকে, বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণের কারণেও আবহাওয়া এমন হয়ে আছে।
আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আকাশ মেঘলা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে গুড়ি গুড়ি। এমন বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকার কোনও কোনও জায়গায়। এই আবহাওয়া বিকাল পর্যন্ত একই রকম থাকতে পারে। এরপর আকাশ পরিষ্কার হলে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমে যেতে পারে। তাছাড়া, ১২ ফেব্রুয়ারির পর আরও একটি শৈত্যপ্রবাহের শংকা রয়েছে।
এদিকে, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সৈয়দপুরে ১০ দশমিক ২, যা গতকাল ছিল তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় ছিল ১৩ দশমিক ৮, আজ ১৬.৮; ময়মনসিংহে ছিল ১১ দশমিক ৭, আজ ১৫. ২; চট্টগ্রামে ছিল ১৪ দশমিক ৪, আজ ১৫; সিলেটে ছিল ১২ দশমিক ১, আজ ১৩.৯, রাজশাহীতে ছিল ১১ দশমিক ৪, আজ ১৫, রংপুরে ছিল ১১ দশমিক ২, আজ ১৫.৫, খুলনায় ছিল দশমিক ৬, আজ ১৭ এবং বরিশালে ছিল ১২, আজ ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ হিসাবে সব এলাকার তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং সারাদেশের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ মো. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সরকার কোনও উদ্যোগ না নিলে এই পরিস্থিতির উন্নতির কোনও সম্ভাবনা নেই। গত ১৫ দিনের কোনও না কোনও সময় বায়ুদূষণের মাত্রার শীর্ষ অবস্থানে ছিল ঢাকা। আগামী দিনিগুলোতেও থাকবে এমনই। তবে আবহাওয়ার কারণ বৃষ্টি হলে প্রাকৃতিকভাবেই দূষণ কিছুটা কমে আসে। কিন্তু যে পরিমাণ বৃষ্টি আসলেই দূষণ কমাতে দরকার তা এই মৌসুমে হয় না। সাধারণত বর্ষাকালে কম হবার কথা কিন্তু তা গতবছরের বৃষ্টিতেও কমেনি। ফলে কার্যকর উদ্যোগ দরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ইফেকটিভ অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না। আরও ভালোভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। এইভাবে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যতে বহু মানুষ নানা রোগে এই কারণে আক্রান্ত হতে পারে। দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, ঢাকায় আজ সকালে বায়ু দূষণের মানমাত্রা ছিল ২৭১, যাকে বলা হয় খুবই স্বাস্থ্যকর, এই মাত্রা গতকাল বিকালে ছিল ১৮৬। গতকাল ছিল শীর্ষ অবস্থানে, আজ এখন আছে দ্বিতীয় অবস্থানে।









