ঢাকাকে বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১৩ জুন ২০২৬, ১৯:৩৮আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১৯:৩৮

রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ‘‘১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে অস্ত্র হাতে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, দেশ গড়ার এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবং ঢাকাকে বাঁচানোর লড়াই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আমাদের বেশি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপণ করা গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"

শনিবার (১৩ জুন) গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে বৃক্ষরোপণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসির ১০ অঞ্চলে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রশাসক।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ৫ বছরে মোট তিন লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০ এলাকায় পাঁচশ’ বৃক্ষরোপণ করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় ৫ বছরে ২৫ কোটি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘‘একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এর বিকল্প নেই।’’

ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, কংক্রিটের আধিক্যের কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে যেতে পারছে না। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে ঘাস বা দুর্বা রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতিনি তিনি আহ্বান জানান।

শহরের সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ছাদ কৃষকদের জন্য বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করেন প্রশাসক। তিনি জানান, ‘‘ঢাকায় যারা ছাদ কৃষি করছেন, তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথম ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পরবর্তীতে ছাদ কৃষকদের হোল্ডিং ট্যাক্স রিবেট (ট্যাক্স ছাড়) দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির জিরো ওয়েস্ট কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে রোড মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের গাছ উপহার দেওয়া হবে।

প্রশাসক নগরীর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘যাদের পার্ক বা উন্মুক্ত স্থান ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনও বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০টি অঞ্চলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’’

সবশেষে তিনি ঢাকাকে একটি সুন্দর, ‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন’ মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এএইচএস/এমএএল/
সম্পর্কিত
শনিবার শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসছেন প্রধানমন্ত্রী
৭ মাসের সন্তান ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ ১৩ বছরের এক মা
মিরপুরে দেয়াল ধসে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় সরকারের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
হাঙ্গেরির গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারিয়ে এককভাবে শীর্ষে বাংলাদেশের নীড় 
৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: আসামির যাবজ্জীবন, তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড
টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৩০ ধাপ লাফ দিলেন সূর্যবংশী
গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় মতামতের সময় ১ দিন, ‘প্রহসন’ বলছে টিআইবি
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
এক ক্লিকেই করদাতার সব তথ্য, এনবিআরকে নতুন রোডম্যাপ দিলো আইএমএফ
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
যুক্তরাজ্যে ঘুরতে রিপ টাইডের কবলে বাংলাদেশি পরিবার: তৃতীয় সদস্যের মৃত্যু