জঙ্গি অর্থায়ন নিয়ে বেশ চিন্তিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে যাতে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের অর্থ স্থানান্তরিত না হয়, সে জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সন্দেহজনক সব লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রেমিট্যান্সের অর্থ জঙ্গি অর্থায়নে ব্যয় হচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। শুধু তাইই নয়, জঙ্গিদের আত্মীয়ের ব্যাংক লেনদেনও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, গুলশান, শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরে নিহত ১৬ জঙ্গি এবং জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সন্দেহভাজন সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরীসহ মোট ১৮ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ, বুধবার দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখা বা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউ’র মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে সব জঙ্গির খবর গণমাধ্যমে এসেছে, সেই সব জঙ্গির সব হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। তবে জঙ্গিদের সংখ্যা ১৮ বা বেশিও হতে পারে। জঙ্গি অর্থায়ন বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে এর আগেও সন্দেহভাজনদের ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে জানান দেবপ্রসাদ দেবনাথ।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের ব্যাংক হিসাব থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে গত ১৯ ও ২০ জুলাই সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থ স্থানান্তর ঠেকাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় ওই বৈঠকে। পাশাপাশি রেমিট্যান্সের প্রকৃত সুবিধাভোগীর তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, জঙ্গিরা যাতে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের আত্মীয়দের ব্যাংক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের অর্থ জঙ্গি অর্থায়নে ব্যয়িত হচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়ে অনুসন্ধান বা তদন্তের স্বার্থে ব্যাংক গ্রাহকদের তথ্য সরাসরি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়ার অধিকার চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি পাঠিয়ে মতামত চাওয়া হয়। এ বিষয়ে গত ২৭ জুলাই ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি চিঠি পাঠান।
/জিএম/এবি/
আরও পড়ুন
১৮ জঙ্গির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
‘আমাকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তারাই শহীদ হলেন’








