১৫-৩০ বছর বয়সীরাই জঙ্গিবাদে বেশি ঝুঁকছে: মনিরুল ইসলাম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৪, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৮, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

মনিরুল-ইসলাম-১অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রিক্রুটাররা অনলাইনে আকর্ষণীয় প্যাকেজ ছাড়ছে। সেসব দেখেই তরুণ-যুবকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-যুবকেরাই জঙ্গিবাদে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।’ শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘ঢাকা পিস টক’ শীর্ষক এক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএসএইডের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্সস ফাউন্ডেশেন (সিসার্ফ)।

বিভিন্ন গবেষণা ও গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাদ দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সহিংস উগ্রবাদ দমনে আমাদের যে প্রচেষ্টা রয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বেই জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এই ঝুঁকি কম। তাই বলে আমাদের যে কাজ, তা বন্ধ করা যাবে না।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন না করা পর্যন্ত আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। হলি আর্টিজানের হামলার পর জঙ্গিবাদবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের কারণে অনেকেই মনে করছেন, এই বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু বিপদ আসলে কমে যায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আমাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। কারণ একটু সুযোগ পেলেই জঙ্গিরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সিসার্ফ-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শবনম আজিম বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেই জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব নয়। এটা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল কাজ। কোনও সুনির্দিষ্ট বাহিনী, সংস্থা বা ব্যক্তির একার পক্ষে এটা দমন করা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিসার্ফ একটি অলাভজনক থিংকট্যাক, যেটি সামাজিক অ্যাডভোকেসি, গবেষণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে। একদল গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দক্ষ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি কৌশলগত চিন্তক ও অ্যাডভোকেসিটর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এ সময় আরও জানানো হয়, ঢাকা পিস টকের কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে ১২টি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে। সমাজের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের একটি প্যানেল তৈরি করা হবে। এরপর ১২টি ইস্যুতে অনুষ্ঠেয় ডায়ালগে অংশগ্রহণ করবেন অভিভাবক, শিক্ষক, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক এনজিও, থিংক ট্যাংক, নারী নেত্রী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তরুণসমাজ, লেখক, ব্লগারসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা।

/এনএল/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ