আইএস’র টুপি কি কারাগার থেকেই সংগ্রহ করে জঙ্গিরা?

Send
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ২৩:৪৫, নভেম্বর ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

আদালতে আসার রিগ্যানের মাথায় আইএস’র টুপি ছিল না (বাঁয়ে), কিন্তু আদালত ছেড়ে যাওয়ার সময় তার মাথায় আইএস’র টুপি দেখা যায়।গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর আদলত চত্বরে আইএসের পতাকাসদৃশ টুপি পরে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে জঙ্গিরা। প্রশ্ন উঠেছে, এই টুপি কোথায় পেলো তারা? কীভাবেই বা সংগ্রহ করেছে? তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। তবে কারা অধিদফতর ও পুলিশ পৃথক কমিটি গঠন করে এ ঘটনা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে আদালত থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় আইএসের টুপি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। রায় ঘোষণার আগে যখন আদালতে হাজির করা হয়, তখনও তার মাথায় কালো রঙের একটি টুপি ছিল। তবে সেই টুপিতে আইএসের পতাকার মনোগ্রাম-সদৃশ আরবি হরফে কোনও লেখা ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশি হেফাজতে থাকার পরও সে কীভাবে এই টুপি পেলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি শুরু হয়েছে সমালোচনা।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জাফর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টুপি পরেছে। সেটাতে লেখা আছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল’। তবে এটি আইএসের টুপি নয়। আমার জানামতে, আইএস কোনও টুপি তৈরি করেছে, পৃথিবীর কোথাও এরকম দৃষ্টান্ত নেই।’
তিনি বলেন, ‘এটি একটি টুপি। সেটিতে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ লেখা। সেটি আইএসের পতাকার নির্দেশক হবে কিনা, তা বিশ্লেষণের ব্যাপার। তারপরও এটি কোথা থেকে, কীভাবে এলো, সেটি আমরা তদন্ত করে দেখবো।’
সরেজিমন আদালত প্রাঙ্গনে দেখা গেছে, রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামিরা ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর’ বলে ওঠে। এরপর তারা আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলে, ‘আমাদের বিজয় খুব শিগগিরই।’ রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের যখন নিচে প্রিজনভ্যানে নিয়ে যাওয়া হয় তখনই রিগ্যানের মাথায় আইএসের পতাকাসদৃশ টুপি দেখা যায়। তবে ক্র্যাচ হাতে রিগ্যানকে কাঠগড়াতেও একই টুপি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। টুপিটি কোথা থেকে পেয়েছো জানতে চাইলে পুলিশি হেফাজতে থাকা রিগ্যান বলে, ‘কারগার থেকে নিয়ে এসেছি।’ এরপরই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে প্রিজনভ্যানে তুলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে চয়ে যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, কাঠগড়ায় থাকা অবস্থাতেই রিগ্যান আইএসের পতাকাসদৃশ টুপিটা পরেছিল।
রিগ্যানের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসামি চার বছর ধরে কারাগারে আছে। এ টুপি সে কোথায় পেলো, এটা তো আমারও প্রশ্ন। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে অর্থের বিনিময়ে কারাবন্দিরা অনেক সুবিধা নিয়ে থাকে। রিগ্যানও টাকা দিয়ে এই টুপি সংগ্রহ করতে পারে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারা অভ্যন্তরে থাকা বন্দিদের হাজতি ও কয়েদি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিচারাধীন আসামিদের হাজতি ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কয়েদি ডাকা হয়। কয়েদিদের জন্য জেল কোড অনুযায়ী নির্ধারিত পোশাক থাকলেও হাজতিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরতে পারে। সেক্ষেত্রে রিগ্যান এই টুপি কারো মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকতে পারে।
এদিন বুধবার (২৭ নভেম্বর) বহুল আলোচিত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায় দিয়েছেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। রায়ে ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তারা হলো হামলার পরিকল্পনাকারী আসলাম হোসনে ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, জঙ্গিদের প্রশিক্ষক রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, অন্যতম পরকিল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, পরিকল্পনাকারী শরীফুল ইসলাম খালেদ এবং অস্ত্র ও অর্থের যোগানদাতা মামুনুর রশিদ রিপন। মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান নামে একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আরও পড়ুন...

 
 

গুলশান হামলা: অভিযুক্ত আট জঙ্গির কার কী ভূমিকা

৩ কারণে হলি আর্টিজান হামলার চার্জশিটে দেরি

দুর্বিষহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন তারা

হামলার পরিকল্পনা রাজশাহীতে, কৌশল নির্ধারণ গাইবান্ধায়, চূড়ান্ত অপারেশন প্ল্যান ঢাকায়

 

/এইচআই/

লাইভ

টপ