‘বিদেশগামী বেশিরভাগ নারীকর্মীই চুক্তি সম্পর্কে জানেন না’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৫০, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৪, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে অতিথিরাবিদেশগামী নারী কর্মীদের বেশিরভাগই চুক্তির বিষয়ে কোনও কিছু জানেন না। সৌদির মোসানেদ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার পরও এ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও ধারণা থাকে না। বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) পরিচালিত ‘নারী অভিবাসী কর্মীর ক্ষমতায়নে সেবা সরবরাহ ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউকেএইড, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ প্রকল্প ও সিজিসিএম গবেষণায় সহায়তায় করে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রতিবেদনের খসড়া তথ্য তুলে ধরেন বিএনএসকে’র নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম ও পরিচালক ড. সায়েদা খালেদা মুহিব।
গবেষণায় বলা হয়, বেশিরভাগ নারী কর্মীরই এখন বিদেশ যেতে কোনও টাকা খরচ করতে হয় না। দেখা গেছে নতুন অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ এবং ফিরে আসা কর্মীদের ৬৮ শতাংশের বিদেশ যাওয়ার সময় কোনও টাকা খরচ করতে হয়নি। ৮৯ শতাংশ নতুন কর্মী ও ৮২ শতাংশ ফিরে আসা কর্মী মনে করেন তাদের আয় সংসার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।
গবেষণায় আরও জানা যায়, ৯৩ শতাংশ নারী কর্মী তাদের পুরো আয় দেশে পাঠিয়ে দেন। সৌদিতে কাজের ক্ষেত্রে তাদের অনলাইন সিস্টেম মোসানেদে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেশিরভাগ নারী কর্মী না জেনেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। গবেষণায় জানা গেছে, বিদেশে ৫৮ শতাংশ নারী কর্মী অবাধে চলাচল করতে পারেন না, ৪৯ শতাংশ নারীকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না, ২৬ শতাংশ নারী প্রাপ্য বেতন পান না, ২৬ শতাংশ মৌখিক নির্যাতনের শিকার হন, ২১ শতাংশ বিশ্রামের সুযোগ পান না, ১৯ শতাংশ নিজেকে দাসের মতো অনুভব করেন, ১৬ শতাংশ নারী নিয়মিত বেতন পান না এবং ১৪ শতাংশ পরিচ্ছন্ন থাকার জায়গা পান না।
বিএনএসকে’র নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম জানান, ৪০০ জন নারী কর্মীকে গবেষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জন প্রথমবারের মতো বিদেশগামী এবং ১০০ জন বিদেশ ফেরত। গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নারী কর্মীদের বিদেশ যেতে সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় গ্যাপ আছে এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ে দুই দেশেই সমস্যাগুলো বের করে আনতে এই গবেষণা।’

 

 

/এসও/আইএ/

লাইভ

টপ