ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: আগেই ‘বাস স্টপেজ’ পরিবর্তনের দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ০১:৫২, জানুয়ারি ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৫, জানুয়ারি ০৭, ২০২০

রাজধানীর কুর্মিটোলায় রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাস থেকে নামার পর নির্জন স্থানে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার আগেই বাস স্টপেজটি শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক নয় উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সেটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, ক্ষণিকা বাসটি তাদের কুর্মিটোলা বাস স্টপেজে নামিয়ে দেওয়ার পর তিন থেকে চার কিলোমিটার হেঁটে তাদের বাসায় যেতে হয়। যে স্থান দিয়ে তারা বাসায় যায়, ওই স্থানে সন্ধ্যার পর কম মানুষের যাতায়াত থাকে এবং সেখানে রাস্তার আশেপাশে গাছের ঝোপঝাড় রয়েছে। যে এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে এর আগেও ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়েছে অনেককে। এছাড়াও সেখানে প্রায় ছিনতাই-চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয় বলেও জানান তারা। নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ২০১৭ সালে কুর্মিটোলা বাস স্টপেজের পরিবর্তে ইসিবি চত্বরে স্টপেজ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। তবে প্রশাসন তাদের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি।

শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। সঠিক সময়ে বাসের স্টপেজ পরিবর্তন করলে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পেতো ওই শিক্ষার্থী। এর জন্য দায় প্রশাসনেরও রয়েছে বলে তারা মনে করেন। 

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসে করে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয় অনেক শিক্ষার্থীকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের ক্ষণিকা বাসে করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাসকারী জিয়া কলোনি, মাটিকাটা, মানিকদী, বালুঘাট, সিএমএইচ, বাগানবাড়ি আবাসিক এলাকার শিক্ষার্থীরাই যাতায়াত করেন। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের বাসটি কুর্মিটোলা বাস স্টপেজে নামিয়ে দেন। বাসটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায় তখন সন্ধ্যা হয়ে যায়। কুর্মিটোলা বাস স্টপেজে যখন তারা নামেন তখন ওই এলাকা নির্জন এবং অন্ধকার থাকে।

প্রসঙ্গত, রবিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষণিকা বাসে করে কুর্মিটোলা যায়। ওই বাস থেকে নামলে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে। পরে রাত ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে নির্জন স্থানে ঝোপঝাড়ের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষণিকা বাসে যাতায়াত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ২০১৭ সালে তারা স্টপেজটি পরিবর্তন করার জন্য প্রক্টর অফিস এবং পরিবহন অফিসে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে তাদের আবেদন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েও আর বাস্তবায়ন করেনি প্রশাসন। এরপর ২০১৮ সালে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা প্রক্টরকে জানালে তখনকার ক্ষণিকা বাসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্টপেজ সরিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে আনে। অর্থাৎ আরও দুরে সরিয়ে ফেলে। তখনও তারা সমস্যা সমাধান করতে প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করেন। তখন প্রক্টর তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা কোন সমস্যাই নয়। তোমরা ক্ষণিকা বাসের সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে অফিসে দেখা করো।’ তবে শিক্ষার্থীরা অনেক অনুরোধ করার পরেও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে তারা প্রক্টরের রুমে নিয়ে যেতে পারেনি।

মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ করে বিকালে বাসে করে কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছাতে তাদের সন্ধ্যা হয়ে যায়। আর ওই এলাকা এমনিতে ওই সময়ে মানুষের আনাগোনা কম থাকে। তখন ওই এলাকায় ছিনতাই এবং ইভটিজিংয়ের মতো অনেক ঘটনা ঘটে থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য আমার জানা নেই। যেখানে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে, সেখানে তারা বাস থেকে নামবে। যেহেুতু তথ্যটি আমার অবগত হয়েছে, সেটি পরিবহন অফিসারকে বলে দেবে।’ 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। পরিবহন সংক্রান্ত কাজ দেখভাল করা প্রক্টরিয়াল বডির কাজ নয়। এ সেক্টরের জন্য বাসগুলোতে কমিটি রয়েছে, তারা পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখভাল করবে।

/এইচকে/

লাইভ

টপ