ক্যাসিনোকাণ্ডে দুই ভাই এনামুল ও রূপন ৪ দিনের রিমান্ডে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০৩, জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫০, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল ও রূপনক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত দুই ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রূপনকে পৃথক দুই মামলায় চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে গেন্ডারিয়া থানার মামলায় তাদের সহযোগী সানি মোস্তফার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন একই আদালত।

এদিন সূত্রাপুর থানার মানি লন্ডারিং মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা রুপনকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। অন্যদিকে গেন্ডারিয়া থানার মানিলন্ডারিং মামলায় এনামুল হক ও তার সহযোগী সানি মোস্তাফার ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করে সিআইডি পুলিশ। উভয় মামলার শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের গ্রেফতার করে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও অর্থ জব্দের পর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের হওয়া ৯টি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। ৯টির মধ্যে চারটিমামলার এজাহারে দুই ভাই এনামুল ও রূপনের নাম রয়েছে। মামলার তদন্ত করে আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করি এবং কেরানীগঞ্জে এক সহযোগীর বাড়ি থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডির তদন্ত ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সম্পত্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। দুই ভাইয়ের মোট ২২টি জমি ও বাড়ি রয়েছে, যার অধিকাংশই পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক। এছাড়া সারাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৯১টি অ্যাকাউন্টে তাদের মোট ১৯ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তাদের পাঁচটি গাড়িও রয়েছে। তাদের বাড়িতে অভিযানের সময় পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। আমরা জানতে পেরেছি, সেগুলোও ব্ল্যাকমানি। দেশের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে তারা সেগুলো রেখেছিল।’

এনামুল রূপনের থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলফোন, পাসপোর্ট ও নগদ অর্থডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, ‘যখন তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় (সেপ্টেম্বর ২০১৯) তারা সেখান থেকে পালিয়ে কক্সবাজার চলে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বোটে কারে অবৈধভাবে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর। তবে সেখানে যেতে ব্যর্থ হয়ে নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। এজন্য তারা ঢাকায় এসে কেরানীগঞ্জে মোস্তফা নামের এক সহযোগীর বাড়িতে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে বেনামি পাসপোর্ট তৈরি করে ভারত হয়ে নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তারা বেনামি পাসপোর্ট ও ভারত হয়ে নেপাল যাওয়ার জন্য মোট ৪০ লাখ টাকা সঙ্গে রেখেছিল। তাদের গ্রেফতারের সময় ওই ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইলফোনও উদ্ধার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জেনেছি, এই দুই জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্যাসিনো ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়। নেপালিদের মাধ্যমে তারা ক্যাসিনোর সরঞ্জাম দেশে এনেছিল। এনামুল ওয়ান্ডারার্স ক্যাসিনো ক্লাবের পরিচালক ছিলেন।’

সম্প্রতি দলীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশকিছু নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের পরপরই ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে রদবদল আসে। এর তিন দিন পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরপর ধানমন্ডি, কলাবাগানসহ উত্তরা, গুলশান, তেজগাঁওয়ের বেশকিছু ক্লাবে একই ধরনের অভিযান চালায় পুলিশ ও র‌্যাব। এসব অভিযানে ক্যাসিনো সামগ্রীসহ প্রচুর পরিমাণে মদ ও অবৈধ অর্থ উদ্ধার করা হয়। অভিযানগুলোতে যুবলীগের কয়েকজন নেতাসহ বেশকিছু ক্লাবের সংগঠককে ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

 

/টিএইচ/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X