রেলওয়েতে সুশাসন দরকার: কৃষিমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০১, জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৫, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

জাতীয় সংসদ (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

রেলের অনিয়ম, দুর্নীতি, কালোবাজারে টিকিট কেনাবেচা বন্ধে সুশাসন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে।’

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী একথা বলেন।

এসময় রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন কৃষিমন্ত্রী। ড. রাজ্জাক বলেন, ‘টিকিট কাটতে গেলে টিকিট পাওয়া যায় না, কিন্তু দেখা যাচ্ছে ট্রেনে সিট খালি থাকছে।’

রেলওয়ের অব্যবহৃত ভূমি খাস খতিয়ানে এনে তা ভূমিহীনদের মধ্যে বরাদ্দ দিতে বিএনপির হারুনুর রশীদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক। হারুনুর রশীদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর প্রস্তাব। আমি নিজেও এ বিষয়টি ভেবেছি। আমি এটা মন্ত্রিসভায় তুলবো।’

বিএনপির সংসদকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেন। এবারও নির্বাচনের পর সংসদে আসা নিয়ে অনেক কিছু দেখলাম। আপনারা সংসদে এসে এ ধরনের ভালো প্রস্তাব দিলে জাতিও উপকৃত হতো। আপনাদেরও জনপ্রিয়তা বাড়তো।’

জামালপুর-৫ আসনের মো. মোজাফ্ফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘১৯৭২ সালে রেলওয়ের ভূমি ছিল ৬০ হাজার ৪০৫ দশমিক ৮৫ একর। বর্তমানে ভূমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮২০ দশমিক ৩৫ একর। রেলওয়ের ৫৮ হাজার ৬০৬০ দশমিক ৫৭ একর ভূমি দখলে রয়েছে। ভূমি লিজ দিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯০ টাকা আয় হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সংস্থা ও লিজ গ্রহণকারীর কাছে রেলের বকেয়া ১২৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৬ টাকা।

সংরক্ষিত আসনের গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালে রেলের ৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২১ জন নিহত ও ১৪১ জন আহত হয়েছেন।

সংরক্ষিত আসনের শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৪৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫৯ জন নিহত ও ৪৩৩ জন আহত হয়েছেন।

১০ বছরে কাঁচা পাট রফতানি অর্ধেকে নেমেছে

গত ১০ বছরে কাঁচাপাট রফতানির পরিমাণ অর্ধেকের বেশি কমেছে। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ১৭ লাখ ৫০ হাজার বেল কাঁচা পাট রফতানি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রফতানির পরিমাণ ৮ লাখ ২৫  হাজার বেল। গত ১০ বছর আগের তুলনায় রফতানির পরিমাণ ৯ লাখ ২৫ হাজার বেল কমেছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দপ্তগীর গাজী এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী গোলাম দপ্তগীরের অনুপস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি প্রশ্নের জবাব দেন।

নোয়াখালী-২ আসনের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জুটমিল করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রিত পাটকলগুলোর ৬৭৫ কোটি টাকার পাটপণ্য অবিক্রিত রয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

/ইএইচএস/এএইচ/

লাইভ

টপ