তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২০, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩২, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

 

আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) এক কর্মকর্তা মারা গেছেন। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু (৪৫)। তিনি এফডিসির ফ্লোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু থানার হাজতখানায় গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, নিহতের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। তিনি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই সময় হাজতে অন্য আসামি থাকলেও তারা কেউ টের পায়নি বলে জানান তিনি। হাজতের সামনে সেন্ট্রির দায়িত্বে কেউ ছিল কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘সেন্ট্রিরা সাধারণত থানার গেটে থাকে। হাজতের সামনে কেউ ডিউটি করে না।’

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সন্ধ্যার পর বাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রোকসানা আক্তার নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরিদর্শক ইফতেখার ইসলাম রবিবার ভোর ৪টায় অচেতন অবস্থায় বাবুকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের সাবেক স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসি তার লাশ শনাক্ত করেন। আলেয়া ফেরদৌসি বলেন, তাকে গতকাল রাস্তা থেকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। পুলিশই জানিয়েছে আবু বক্কর সিদ্দিক ঢামেক হাসপাতালে রয়েছেন। পরে এসে তার মৃতদেহ দেখতে পাই। নিহত বাবু নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন।

এফডিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাত পৌনে ৮টায় ফোনে পুলিশ আবু বক্কর সম্পর্কে জানতে চায়। এসময় আবু বক্কর সিদ্দিক এফডিসিতে চাকরি করেন বলে জানাই। পরে শুনেছি পুলিশ হেফাজতে তিনি মারা গেছেন।

বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জিএম সাঈদ বলেন, শনিবার বিকালে আমরা একসঙ্গে চা খেয়েছি। পরে শুনেছি তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছি রোকসানা আক্তার নামে এক নারী আবু বক্করের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে থানায় অভিযোগ করেছেন। ওই মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।

জিএম সাঈদ বলেন, পুলিশ বলছে বাবু থানায় আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু বাবু আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়। থানায় সে কীভাবে আত্মহত্যা করবে। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা তার মৃত্যুর বিচার চাই।

যোগাযোগ করা হলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মইনুল হাসান বলেন, ‘বাবু এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। তার নামে নারী নির্যাতন ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছিল। এক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। তিনি ওই মেয়েকে হুমকি-ধমকি দেন। আটক করে থানায় আনার পর তিনি আত্মহত্যা করেন।’ সিসিটিভি ফুটেজে আত্মহত্যার বিষয়টি দৃশ্যমান বলেও জানান তিনি।

/এনএল/আরজে/এমআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ