৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ ইনফেকশন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০০, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২২, জানুয়ারি ২০, ২০২০

 

‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’ এর প্রাথমিক ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ হলো ইনফেকশন (সংক্রমণ), জন্মের সময় শ্বাসরোধ, অপরিণত ও কম ওজন, পানিতে ডোবা এবং জন্মগত ত্রুটি। এছাড়া ২৮ দিন বয়স হওয়ার আগে এক হাজারের মধ্যে ৩০ শিশু মারা যাচ্ছে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) ‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’ এর প্রাথমিক ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)। এই জরিপকে দেশের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সবচেয়ে বড় জরিপ বলে ধরা হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিশুমৃত্যু, বাল্যবিয়ে এবং প্রজনন ও উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিক বিষয়ে জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। এ জরিপে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে ইউএসএআইডি। অনুষ্ঠানে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের শিশুমৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সে মারা যাওয়া শিশুদের ৩১ শতাংশই ইনফেকশনে (সংক্রমণ) মারা যাচ্ছে। ইনফেকশনে বছরে মারা যাচ্ছে ৪১ হাজার ৮৫০ শিশু। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেরিনেটাল অর্থ্যাৎ জন্মের সময়ে শ্বাসরোধজনিত কারণে। জন্মের সময়ে শ্বাসরোধ হয়ে প্রতি বছর মারা যায় ২৭ হাজার ৬৭৫ শিশু। শিশুমৃত্যুর তৃতীয় কারণ অপরিণত এবং কম ওজন। এ কারণে বছরে মারা যাচ্ছে ৩৬ হাজার ৯০০ শিশু। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যু। পানিতে ডুবে প্রতি বছর মারা যায় ১১ হাজার ৭৪৫ শিশু। আর পঞ্চম স্থানে রয়েছে জন্মগত ত্রুটি। জন্মগত ত্রুটিতে বছরে মারা যায় প্রায় আট হাজার ৫০৫ শিশু। এছাড়া প্রতি বছরে অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে এক হাজার ৩৫০ শিশু।

‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’ এর প্রাথমিক ফল প্রকাশ অনুষ্ঠান

বাল্যবিয়ে এবং গর্ভধারণ বিষয়ক আরেক জরিপে নিপোর্ট জানায়, নারীশিক্ষায় এগিয়ে গেলেও দেশে বাল্যবিয়ে বহুলভাবে চালু রয়েছে। আর নতুন দম্পতিরা বিয়ের দুই বছরের মধ্যে তাদের প্রথম সন্তান নিতে আগ্রহী হন।

অপরদিকে, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিক বিষয়ে জরিপে নিপোর্ট জানায়, বর্তমানে দেশে ৩০ মিলিয়ন উচ্চ রক্তচাপ এবং ১১ মিলিয়ন ডায়াবেটিক রোগী রয়েছে। আর দিনে দিনে এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিপোর্ট এর পরিচালক ( গবেষণা) রফিকুল ইসলাম সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুপ্রিয় কুমার কুন্ডু, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনাসহ অন্যরা।

 

/জেএ/এমআর/

লাইভ

টপ