৮ শতাংশ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর পরিবারের বসতভিটা নেই

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:০২, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৭, জানুয়ারি ২২, ২০২০

 

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডির  সংলাপ

দেশের শতভাগ বস্তিবাসী যুবগোষ্ঠী, প্রায় শতভাগ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার যুবগোষ্ঠী এবং ৮ শতাংশ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর পরিবারের বসতভিটা নেই। এইসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে (বস্তি) অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও এশিয়া ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য তুলে ধরা  হয়েছে। ‘প্রান্তিক যুবসমাজের কর্মসংস্থান সরকারি পরিষেবার ভূমিকা’ শীর্ষক গবেষণার ওপর মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সংলাপ হয়। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সংলাপে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গবেষণার বরাত দিয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭ শতাংশ বস্তিবাসী ও তার পরিবার বাসস্থান থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এর ফলে যুবকদের শৈশব অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটে। তিনি বলেন, শিক্ষায় সরকার অনেক সাফল্য অর্জন করলেও প্রান্তিক যুবকেরা এর সুফল পুরোপুরি পায়নি। কারণ, সমতলের আদিবাসী ও সিলেট অঞ্চলের শহুরে যুবগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ শতাংশ মনে করেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় মানের প্রতিষ্ঠানগুলো চেয়ে অর্ধেক নিম্নমানের। 

গবেষণায় আরও বলা হয়, পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক যুবগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে চারটি চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলো হলো- জীবন ও জীবিকা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সরকারি উদ্যোগ কম। কর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশের গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই বলে জরিপে তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় যুব নীতিতে বর্ণিত ১৬টি ক্যাটাগরির প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে ৪ ধরনের মানুষের উপর জরিপটি চালানো হয়। এক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের আদিবাসী, শহরের বস্তিবাসী, মাদ্রাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সিলেটে অবস্থানরত শহুরে যুবগোষ্ঠীর ৩৩৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়।

গোলাম মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন, সিলেট শহরের ৭৩ শতাংশ যুবক নিজের এলাকায় পছন্দমতো কাজ পান না। আর ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার যুবকদের ২৬ শতাংশ নিজের এলাকায় চাহিদামতো কাজের সুযোগ কম বলে মনে করেন। তিনি বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়াদের ৬০ শতাংশ মনে করেন, গ্রামীণ প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো কেবল নামে মাত্র দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে ঠিক মতো প্রশিক্ষণের ক্লাস হয় না, সেখানে ভালো কোনও প্রশিক্ষক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট শহরের ৭৩ শতাংশ যুবক নিজের এলাকায় পছন্দমতো কাজ পান না। আর ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার যুবকদের ২৬ শতাংশ নিজের এলাকায় চাহিদামতো কাজের সুযোগ কম বলে মনে করেন।

গবেষণায় বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মনে করেন, তাদের বিজ্ঞান, গণিত বিষয়ের শিক্ষকের অভাব। এছাড়া স্কুলের বেতন ছাড়াও পড়ালেখাকেন্দ্রিক অন্যান্য খরচ বহন করতে না পারার কারণে অনেকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।

অনুষ্ঠানে সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে জোর দিচ্ছে। কিন্তু এই অর্থনীতিতে বছরে কতো লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পোশাক খাতে স্যুট কাটিং মাস্টার চাহিদা আছে, কিন্তু দক্ষ লোক না থাকায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান থেকে লোক আনতে হচ্ছে। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গলদ আছে। সেকারণেই দক্ষ লোক তৈরি হচ্ছে না। শুধু অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করছে, তখন অফিসার ছাড়া কিছুই হতে চাচ্ছে না। অথচ অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিদেশি লোকজন চাকরি করে প্রচুর টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে।

 

/জিএম/এমআর/

লাইভ

টপ