ঢাবিতে সান্ধ্য কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সুপারিশ

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:১৫, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৭, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)-তে সান্ধ্য কোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে ‘সান্ধ্য কোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি’। একইসঙ্গে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা করার কথাও সুপারিশ করেছে কমিটি। কমিটির একাধিক সদস্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী।

এর আগে গত বছরের মে মাসে সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন উপাচার্য। ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হাসানুজ্জামান। কমিটি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে প্রায় আট মাস পর ‘সান্ধ্য কোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের’ সুপারিশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান্ধ্যকোর্সে শিক্ষার্থীদের একক পরীক্ষকের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া, ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের দ্বারা খাতা মূল্যায়ন, ঢিলে ঢালা নিয়মে সনদ প্রদান, আর্থিক লেনদেন প্রাপ্তির মাধ্যমে সনদ প্রদান করা হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের মান কমছে বলেও সুপারিশে বলা হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির দুইজন সদস্য জানান, অর্থের বিনিময়ে কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফিকেট দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি সনদের মান কমে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব ধরনের সান্ধ্য কোর্স সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে জাতীয় স্বার্থে যদি বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে এসব কোর্স চালু রাখা উচিত তবে তা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার আদলে চালু রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রোগ্রামে যেভাবে ক্লাস-পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে সনদ প্রদান করা হয় সেভাবে করা হোক। এভাবে করলে একটা কোয়ালিটি বজায় রাখা সম্ভব বলে যাচাই কমিটি মত দিয়েছে।

ওই দুই সদস্য আরও জানান, ‘কোর্সগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও নীতিমালা না থাকায় একটা খসড়া নীতিমালাও প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা প্রোগ্রাম চালাতে হলে আগে সেটার গুরুত্ব যাচাই, এসব কোর্স নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা বিবেচনায় আনা, চালুকৃত বিভাগের অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এই নীতিমালাকে গ্রহণযোগ্য মনে করলে কিছু সংযোজন বিয়োজন করে তা চূড়ান্ত করতে পারে।

প্রতিবেদন জমার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘সান্ধ্য কোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি’র আহ্বায়ক  অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে পারবো না। যা বলার উপাচার্য বলবেন।

প্রতিবেদন পেয়েছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তবে, এখন সেটি খুলে দেখেননি বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোরামে উত্থাপন করা হবে জানিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই করতে একটি কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  একই বছরের (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ সভাপতির বক্তব্যে সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার ব্যাপক সমালোচনা করেন। এরপরই দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশনজট বেশি থাকায় দুই শিফটে পড়ানো বা সান্ধ্যকালীন কোর্সে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এটা ঠিক যে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা নিজের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে যতটা না আন্তরিক, বেসরকারি কোথাও ক্লাস নিতে তারচেয়ে বেশি আন্তরিক হয়ে পড়েন। তাতে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। তবে সেগুলো আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে আসছে। সান্ধ্যকালীন কোর্সের ব্যাপারে মাননীয় রাষ্ট্রপতিও উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে যাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটা আমরা দেখছি।’

 

/এসআইআর/টিএন/

লাইভ

টপ