১৯৭২। সদ্য স্বাধীন দেশের প্রথম বছরের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল। এপ্রিলে দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১২ এপ্রিলের এইদিনে মন্ত্রি পরিষদে আরও নতুন আট মন্ত্রী যুক্ত করেন। তাদের শপথও এইদিনে অনুষ্ঠিত হয়। সদ্য জন্ম নেওয়া দেশকে গড়তে ও একের পর এক ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন মন্ত্রীদের সমন্বয়ে পুরো মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেন তিনি। দিনটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রসিকিউশন টিম চূড়ান্ত করাসহ আরও কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাও ঘটে। এদিন সংবিধান প্রণয়ন কমিটি ১৭ এপ্রিল প্রথমবারের মতো তাদের আনুষ্ঠানিক সভায় বসবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্র দৈনিক বাংলা ও ডেইলি অবজারভারের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হন যারা
মন্ত্রিসভায় আরও আটজন নতুন সদস্যকে যুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এইদিনে। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বঙ্গভবনে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এরা হচ্ছেন আব্দুল মালেক, মোল্লা জালাল উদ্দিন আহমেদ, সোহরাব হোসেন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আবদুল মান্নান, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী এবং মফিজ চৌধুরী। মন্ত্রিসভায় এবারও কোনও নারী সদস্য যুক্ত করেননি বঙ্গবন্ধু।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রসিকিউশন টিম চূড়ান্ত
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন টিম চূড়ান্ত করা হয়। প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান আর এস পল এবং সিরাজুল হক। এছাড়া ছিলেন আইনজীবী ওয়াদুদ ভূইয়া ও মাহমুদুল ইসলাম।
বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে উদ্যোগ নেন এবং আন্তর্জাতিক কাঠামো অনুসারে সংগঠন তৈরির কাজও শুরু করেন। একইসঙ্গে দেশের নিজস্ব ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির ঘোষণাও ছিল। ২৪ জানুয়ারির দৈনিক বাংলায় প্রধান খবর ছিল ‘প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করা হচ্ছে: ন্যায্যবিচার ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দালালদের বিচার।’ কৃষিমন্ত্রী শেখ আব্দুল আজিজের বরাত দিয়ে সেই সংবাদে বলা হয়, মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, দালালদের বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। স্থানীয় সার্কিট হাউজ ময়দানে এক জনসমাবেশের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করা হচ্ছে, ন্যায্যবিচার ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না।’ আর এপ্রিলের ১২ তারিখ প্রসিকিউশন টিম গঠনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়ায় আরও একধাপ এগিয়েছিল বিচার কার্যক্রম।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে
জুলফিকার আলী ভুট্টো এইদিনে ইন্দিরা গান্ধীর দেওয়া দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সম্মতি জ্ঞাপন করে চিঠি পাঠান। বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল অফিসার হাকসার এ চিঠি গ্রহণ করেন এবং সেটি কিছুক্ষণের মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর হাতে পৌঁছায়। এর আগে ৯ এপ্রিল ইন্দিরা গান্ধি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব পাঠান ভুট্টোর কাছে। ধারণা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে সক্রিয় উদ্যোগ হবে এই বৈঠক। যদিও এর আগে ভুট্টো বেশকিছু উড়ো মন্তব্য করছিলেন তাদের স্থানীয় সভা সমাবেশে। তার প্রত্যুত্তরে বঙ্গবন্ধু কিছু বলতে অস্বীকার করলেও কয়েকটি সমাবেশে সুস্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। সেটি মেনে নিলে তবেই কোনও আলাপে বসার সুযোগ আছে।








