‘দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয় দেওয়া প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৭, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৩, মে ১৯, ২০২০

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ (ফাইল ছবি)

দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয় দেওয়া প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ হুঁশিয়ারির কথা জানান তিনি।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে এক বা একাধিক প্রতারকচক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বেসরকারি ব্যক্তিদেরকে মোবাইল বা টেলিফোনের মাধ্যমে ফোন করে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে।  আজই কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দুদক চেয়ারম্যানকে এই প্রতারণার বিষয়গুলো অবহিত করেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দুদক চেয়ারম্যানকে  জানান, করোনার এই মহা দুর্যোগকালেও একাধিক প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি তাদেরকে (দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের)  জানিয়েছেন, ‌‘এসব প্রতারক তাদেরকে (সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি) দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টেলিফোন করেছেন এবং বলেছেন— তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে হলে তাদেরকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ দিতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে অবহিত হয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‍‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষ কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এজাতীয়  প্রতারক ও প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। কমিশন থেকে বার বার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কখনও কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দাদের মাধ্যমে প্রতারকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার কখনও পুলিশ বা র‌্যাবের সহায়তায় প্রতারকদের গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বেশকিছু মামলা বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন রয়েছে।  আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সর্ব সাধারণকে অনুধাবন করতে হবে— কমিশনের বিবেচনাধীন কোনও অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তাদের টেলিফোন করার কোনও সুযোগ নেই। যা প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে অনেক আগ  থেকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, যেসব প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরকে আইনি হেফাজতে নিয়ে জ্ঞিাসাবাদসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেও দেখা গেছে— এসব ঘটনায় দুদকের কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্পৃক্ত নন।’ তিনি বলেন, ‘এছাড়াও দুদকের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন বা তদন্তাধীন কোনও অভিযোগ হতে  কমিশনের কোনও কর্মকর্তার একক  অভিপ্রায় অনুসারে অব্যাহতি প্রদান, কিংবা অভিযুক্ত করারও কোনও সুযোগ নেই। কমিশনের অনুসন্ধান বা তদন্ত এমন একটি প্রক্রিয়া, যা তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কমিশনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সম্পৃক্ত। কমিশনের আইন-অনুযায়ী  সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে । তাই এ জাতীয় প্রতারকদের টেলিফোনে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। এদের সঙ্গে  কোনোরূপ অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে কেউ জড়াবেন না। এ জাতীয় প্রতারকদের অনৈতিক অর্থ প্রদান দুর্নীতির শামিল।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে নিকটস্থ থানা অথবা র‌্যাব কার্যালয় বা দুদকের স্থানীয় সমন্বিত জেলা  কার্যালয়ে অভিযোগ জানান। প্রয়োজনে দুদকের পরচিালক (গোয়েন্দা) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল নম্বর ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য (মোবাইল নম্বর ০১৭১৬-৪৬৩২৭৬) কে অভিযোগ জানাবেন। এসব  প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কমিশন এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

/আরজে/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ