লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৪৫, জুন ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৫, জুন ০৭, ২০২০

গ্রেফতার সুজনলিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার নাম সুজন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর কমলাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সুজনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন লিবিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ইছার উদ্দিনের স্ত্রীর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা জানান, মানব পাচারকারী এই চক্র, ইছার উদ্দিনসহ ভৈরবের সজল ও বিজয় নামে তিন জনকে লিবিয়া পাঠিয়েছিল। তাদের মধ্যে দু'জন নিখোঁজ রয়েছেন। একজনকে মানব পাচারকারী চক্রের টর্চার সেল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, 'এরা বিশেষ কৌশলে মানবপাচার করে আসছে। এদের আরও কয়েকজন সহযোগীকে ধরতে অভিযান চলছে।'

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে লিবিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নেত্রকোনার বাসিন্দা ইছার উদ্দিনকে চট্টগ্রাম থেকে দুবাই হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়। লিবিয়াতে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য অন্যান্যদের সঙ্গে ইছারকেও নির্মম নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত মুক্তিপণ পরিশোধ করতে বলে। তা না হলে ইছারকে হত্যা করা হবে বলে জানানো হয়।

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানাধীন হযরত আলী, তার ছেলে সজীব, সুজন ও সঞ্জিত মিলে ইছারকে লিবিয়া পাঠায়। তাদের সঙ্গে একই এলাকার জাফর, মামুন, শাকিল ও কাউছার বিদেশে মানব পাচার করে থাকে। জাফর ও সজীব আগে লিবিয়ায় থাকতো। সেখান থেকে দেশে ফিরে লোকজনকে অনেক টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া নিয়ে টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, মানব পাচারকারী এই চক্রটির ঘাটে ঘাটে লোকজন সেট করা রয়েছে। দুবাইয়ে আফ্রিন নামে একজন তাদের আম্মান হয়ে লিবিয়ার বেনগাজিতে নিয়ে যেত।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লিবিয়াতে নির্যাতনকারী সজীব তাদের বলেছে, 'সব টাকা দিবি। মুক্তিপণের টাকা আমরা একা খাই না। সিরিয়া ও লিবিয়াতে অংশগ্রহণকারী ধর্মযোদ্ধা ও মিলিশিয়াদের এই টাকার ভাগ দিতে হয়। তাদের নির্দেশে আমরা কাজ করি।'

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, মানব পাচারকারী এই চক্রের সব সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই সুজনের সহযোগীদের গ্রেফতার করা যাবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লিবিয়ার একটি টর্চার সেল থেকে ২৬ জন বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও কয়েকজনকে। মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

 

/এনএল/আইএ/

লাইভ

টপ