মানবপাচারে এক মরণফাঁদ ‘গুডলাক’

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ১২:০০, জুন ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৬, জুন ০৮, ২০২০

মানবপাচার‘গুডলাক’ একটি মানবপাচারকারী চক্রের নাম। যদিও এটা তাদের ছদ্মনাম। গুডলাক ছদ্মনামে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেকার যুবক ও তরুণদের টার্গেট করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর টোপ দেয়। আর তাদের ফাঁদে পড়ে জীবন হারাচ্ছে উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানো বেকার তরুণরা।

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা তদন্তে গিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গুডলাক ছদ্মনামে এই চক্রের সন্ধান পেয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে পল্টন ও বনানী থানায় চারটি মামলা হয়েছে। চক্রটির সবাইকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডি কাজ করছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকালে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,  পল্টন থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে প্রথম একটি এবং ৪ জুন পল্টন ও বনানী থানায় আরও দু’টি মামলা হয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত পাচারের শিকার হওয়া ভিকটিমের হয়ে এসব মামলা করা হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় মামলা যথাক্রমে ৩৮, ৩৬ ও ৩৪ জন মানবপাচারকারীর বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পল্টন থানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আরেকটি মামলা দায়ের করেছে যেখানে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মোট নামীয় আসামি ১২৪ জন।

লিবিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে এ চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেনকে ১ জুন গ্রেফতার করে র্যা ব।

সিআইডি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ২০ মার্চের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশিকে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে পাচার করা হয়। দুই বছর ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে ৩৮ বাংলাদেশিকে সংগ্রহ করে তারা লিবিয়ায় পাচার করেছে। পাচারের সঙ্গে দেশের ১৩ জেলার দুই শতাধিক ব্যক্তি জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যেও চক্রের সক্রিয় সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে।

তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই চক্রটি মানবপাচারের ক্ষেত্রে ‘গুডলাক’ ছদ্মনাম ব্যবহার করছে। যারা তাদের এই চক্রের সদস্য তারা সবাই এই নাম ব্যবহার করে। নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর রুবেল মির্জা, নাসির উদ্দিন মির্জা ও রিপন মির্জা মানবপাচারকারী চক্রের ‘গুডলাক’ গ্রুপের অন্যতম সদস্য। এই চক্রের সঙ্গে সারাদেশে দুই শতাধিক সদস্য রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

সিআইডি জানিয়েছে, বিভিন্ন এজেন্সির ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক, কর্মচারী ও তাদের দালালরা এসব মানবপাচার চক্রের সদস্য। তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বেকার যুবকদের টার্গেট করে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে। এরপর ৩-৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করে। লিবিয়ায় তাদের নেওয়ার পর জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে অনেক ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। হত্যা, অস্ত্র, পাচার, মানিলন্ডারিং, নির্যাতনসহ অসংখ্য অপরাধ হয়েছে। ভিকটিম অসংখ্য তাই একাধিক মামলা হতে পারে। ভিকটিমরা চাইলেও মামলা করতে পারেন। সিআইডি বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। মামলাগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে।’

পল্টন থানায় রাকিব নামে এক ভিকটিমের বাবা মামলা করেছেন। এই মামলাটি তদন্ত করবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবির (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, ইতোমধ্যে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির অনেকের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

/এআরআর/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ