এন্ট্রি ভিসা নিতে নাবিকদের যে নিয়ম মানতে হবে

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ২২:৩০, জুলাই ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪০, জুলাই ০৪, ২০২০

মংলা বন্দর (ছবি- সংগৃহীত)করোনা পরিস্থিতিতে নৌবন্দরগুলো থেকে বাংলাদেশের এন্ট্রি ভিসা নিতে সমুদ্রগামী জাহাজের বিদেশি ক্যাপ্টেন, নাবিক ও ক্রুদের বেশ কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী ছাড়া আপাতত আর কাউকে অন অ্যারাইভাল ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে।

শনিবার (৪ জুলাই) খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। করোনা পরিস্থিতিতে সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, সমুদ্রগামী জাহাজের পাইলট, নাবিক ও ক্রুরা ‘নেক্সট এভেইলেবল ফ্লাইট’ না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজ থেকে সাইন অফ করে এন্ট্রি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদেরকে জাহাজের ক্যাপ্টেন বা ইনচার্জের দেওয়া করোনাভাইরাস লক্ষণ মুক্ত মর্মে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সনদ ও ঘোষণাপত্র এন্ট্রি পোর্টের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখাতে হবে। ক্রুরা জাহাজ থেকে নেমে হোটেলে অবস্থান করতে চাইলে প্রথমে বন্দরের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন আইএইচআর হেলথ ডেস্কে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের কোনও লক্ষণ পাওয়া না গেলে ক্রুরা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমতি নিয়ে ইমিগ্রেশন পয়েন্ট দিয়ে নির্ধারিত সময়ের জন্য এন্ট্রি ভিসা নিতে পারবেন। পরীক্ষায় যদি করোনাভাইরাসের কোনও লক্ষণ দেখা যায় সেক্ষেত্রে রোগী হিসেবে আরও পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নির্ধারিত আইসোলেশন সেন্টারের পাঠাতে হবে। হোটেলে থাকাকালীন সময়ে তাদেরকে প্রথম ১৪ দিনের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী ক্রুরা কোনও দেশে বিশেষ কারণে আটকা পড়লে তাদের হোটেল অথবা অন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা সেই দেশের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে জাহাজগুলো যে রেজিস্টার্ড শিপিং এজেন্টের মাধ্যমে এই দেশে এসেছে তাদেরকেই ক্রুদের দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে হবে। বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে কোনও ক্রু অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শিপিং এজেন্ট অসুস্থ ক্রুর যাবতীয় চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তাছাড়া ক্রুরা যেখানেই অবস্থান করুক ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশন (আইএইচআর ২০০৫) নিয়ম অনুযায়ী যে পোর্ট অথবা এন্ট্রি পয়েন্ট দিয়ে তারা ভিসা নিয়েছেন সেই হেলথ অফিসে প্রতিদিন সংক্রামক রোগসহ রিপোর্ট করার দায়িত্ব শিপিং লাইনস এজেন্টের। ক্রুরা যদি ঢাকায় অবস্থান করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট তাদের ঢাকা অফিসের মাধ্যমে ক্রুদের হেলথ রিপোর্ট সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পোর্ট হেলথ অফিসে জানাবেন।

জাহাজের সাইন অনের লক্ষ্যে বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যুকৃত করোনামুক্ত স্বাস্থ্য সনদ এন্ট্রি পোর্টের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে জমা দিয়ে দ্রুত জাহাজ সাইন অন করতে হবে। পাইলট নাবিক ও ক্রুরা সাইন অন বা অফ এর সময় কর্মস্থল, হোটেল, রেসিডেন্স ও এয়ারপোর্টে যাতায়াত ছাড়া দেশের ভেতর অন্য কোথাও অবস্থান বা যেতে পারবেন না।

অন্যদিকে, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রথমে সব ধরনের আগমনী (অন অ্যারাইভাল) ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত জুন মাসের মাঝামাঝি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে করোনা সংক্রান্ত সকল স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আগমনী ভিসা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আগমনী ভিসা (অন অ্যারাইভাল) নিয়ে ইমিগ্রেশনগুলোতে ১৬ জুন দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সকল দেশের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ আগমনী ভিসা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তবে শুধুমাত্র বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশ আগমনী ভিসা দেওয়া যাবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও বহিরাগমন শাখার অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এগুলো আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় সময় পরিবর্তন করা হয়।’

জাহাজের নাবিক, ক্যাপ্টেন ও ক্রুদের এন্ট্রি ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা রয়েছে আমাদের কাছে। সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

/জেইউ/এনএস/

লাইভ

টপ