বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বেসরকারি শিক্ষকরা

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ০৬:৫৯, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫৯, জুলাই ০৯, ২০২০

শিক্ষকদের অনশন (ফাইল ছবি)বেতন বৈষম্য নিরসনসহ শতভাগ বাড়িভাড়া ও উৎসবভাতা চেয়েছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। ঈদের আগেই শিক্ষকদের এই সমস্যা সমাধানসহ মুজিববর্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণাও চেয়েছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি শিক্ষকদের পক্ষে এসব দাবি সম্বলিত আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম। শিক্ষক নেতারা জানান, দীর্ঘ দিনেও শিক্ষকদের বৈষম্য নিরসন না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষকদের দাবি এবং ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্কুলের এমপিওভুক্ত একজন সহকারী শিক্ষক ১১তম গ্রেডে বেতন পান মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা।  বিএড থাকলে দশম গ্রেডে বেতন পান ১৬ হাজার টাকা।  এই স্বল্প বেতন নিয়ে শুরু করতে হয় শিক্ষকতা জীবন। প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয় মূল বেতনের মাত্র ৫ শতাংশ। আর মূল বেতন থেকে প্রতিমাসে কল্যাণ ফান্ড ও অবসর ফান্ডের জন্য কেটে নেওয়া হয় মোট ১০ শতাংশ টাকা। শিক্ষকরা বাড়িভাড়া বাবদ পান ১ হাজার টাকা। আর চিকিৎসাভাতা পান মাত্র ৫০০ টাকা।

এমপিওভুক্তির ১০ বছর পর একটি উচ্চতর গ্রেডে (নবম গ্রেড) পদোন্নতি পেয়ে স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক বেতন পান ২২ হাজার টাকা। ততদিনে সন্তানদের লেখাপড়া এবং চিকিৎসা ভাতাসহ সংসারে নানা খরচ যুক্ত হলেও চাকরি জীবনে আর কোনও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ নেই সহকারী শিক্ষকদের।

আর সহকারী প্রধান শিক্ষক অষ্টম গ্রেডে মোট বেতন পান ২৩ হাজার টাকা।  প্রধান শিক্ষক না হলে আর কোনও গ্রেড সুযোগ নেই সহকারী প্রধান শিক্ষকের। একজন প্রধান শিক্ষক সপ্তম গ্রেডে বর্তমানে বেতন পান মোট ২৯ হাজার, যা তার চাকরি জীবনের সর্বোচ্চ গ্রেড।

বেতন, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা ছাড়া বছরে দুটি উৎসবভাতা পান শিক্ষকরা।বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত কর্মচারীরা দুটি উৎসব ভাতা পান বেতনের ৫০ শতাংশ। অথচ সরকারি শিক্ষকরা উৎসবভাতা পান মূল বেতনের সমান। আর ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষকরা বৈশাখী ভাতা পান সরকারি শিক্ষকের সমান ২০ শতাংশ। এই বৈষম্য একই প্রতিষ্ঠানে চলছে বছরের পর বছর।

এদিকে কলেজ শিক্ষকদের প্রবেশ পদ প্রভাষক হিসেবে নবম গ্রেডে বেতন ২২ হাজার টাকা। ১০ বছর পর উচ্চতর স্কেলে পদোন্নতি পেয়ে (ষষ্ঠ গ্রেড) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বেতন পান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রভাষকদের মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন ৫ অনুপাত ২ জন।  সহকারী অধ্যাপকরা পদোন্নতি পেয়ে ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন পেলেও সহকারী অধ্যাপক হতে না পারা প্রভাষকরা ১০ বছর পর উচ্চতর স্কেল পেয়ে অষ্টম গ্রেডে বেতন পাবেন মাত্র ২৩ হাজার টাকা। নবম গ্রেড থেকে উচ্চতর গ্রেড অষ্টম গ্রেড পেয়েও বেতন বাড়ে মাত্র এক হাজার টাকা।  এরপর এমপিওভুক্তির ১৬ বছর পূর্তিতে প্রভাষকরা সপ্তম গ্রেড পান, যা ২০১৮ সালের নীতিমালার আগে আট বছরেই পেতেন। এরপর চাকরি জীবনে ইনক্রিমেন্ট ছাড়া আর কোনও গ্রেড নেই তাদের।

২০১৮ সালের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী অনুপাত প্রথার কারণে সহকারী অধ্যাপক হতে পারেন সাত জন প্রভাষকের মধ্যে মাত্র দুইজন। বাকি পাঁচ জনের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সহকারী অধ্যাপক হতে না পারা প্রভাষকরা ১০ বছর পর উচ্চতর গ্রেড (অষ্টম) পেলেও বেতন বাড়ে মাত্র এক হাজার টাকা।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘দীর্ঘ দিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই শতভাগ ঈদ বোনাস ও বাড়িভাড়া সরকারি নিয়মে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কলেজ শিক্ষকদের অষ্টম গ্রেড না দিয়ে সরাসরি সপ্তম গ্রেড দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ’

রাজধানীর বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক রাশেদুল ইসলাম অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবি করে বলেন, ‘অনুপাত প্রথা বাতিল করে সব প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দিতে হবে। যাতে একই যোগ্যতা থাকা সব প্রভাষকরা উচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ পান। যোগ্যতা থাকার পরও উপাধ্যক্ষ বা অধ্যক্ষ হওয়ার পথ বন্ধ করা এমন প্রথা বাতিল করা জরুরি। যদি এখনি তা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে অন্তত দ্রুত বেতন বৈষম্য দূর করতে সহকারী অধ্যাপক হতে না পারা প্রভাষকদের সরাসরি সপ্তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হোক। ’

 

/এমআর/

লাইভ

টপ