মুজিববর্ষেই ইউনিক আইডি পাবে শিক্ষার্থীরা

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ০৭:৫৯, জুলাই ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩০, জুলাই ৩০, ২০২০

করোনাকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর দেশের তিন কোটির বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক আইডি (একক পরিচয়) দেওয়ার কাজ শুরু করবে সরকার। পাঁচ বছর বয়সী প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত দ্বাদশ শ্রেণির সব ছাত্র-ছাত্রী পাবে এই ইউনিক আইডি। ১৮ বছর বয়সে ইউনিক ১০ ডিজিটের আইডির নম্বরেই পাবে শিক্ষার্থীরা পাবে জাতীয় পরিচয়পত্র। শিক্ষার্থীদের এই ইউনিক আইডি দেওয়া শুরু হবে মুজিববর্ষেই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোফাইল প্রণয়ন’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) -এর ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) শীর্ষক দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন জেনারেলের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনিআইডি) অনুবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরের সহায়তায় এই কার্যক্রম চলছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্ বলেন, ‘ছুটির পর পুরো কাজ শুরু হবে। মুজিবর্ষেই শিক্ষার্থীদের হাতে ইউনিক আইডি দিতে পারবো। আগামী জুন মাসের মধ্যে আইডি দেওয়ার কাজ শেষ করতে পারবো।‘

ব্যানবেইস-এর ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আইডি দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। কিন্তু করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কাজ করতে পারছি না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে আইডির কার্যক্রম শুরু করবো।’ 
আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক দিবস পালনের নির্দেশ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণ চিঠিতেও বঞ্চিত হচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষকরা!
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই জোর দিচ্ছে সরকার, থাকছে বিকল্প ভাবনাও
শিক্ষকদের উদ্দেশে মাউশির নির্দেশনা

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সমন্বিত ও কার্যকর ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস’ (সিআরভিএস) ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রত্যেক নাগরিকের একটি ইউনিক আইডি তৈরি করার নির্দেশনার আট বছর পর এই প্রথম শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ইউনিক আইডি করার উদ্যোগ নেওয়া হয় গত বছর। শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডিতে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্রের চেয়ে বেশি তথ্যের সংযোজন থাকবে। সিআরভিএস বাস্তবায়নের আলোকে এই আইডি দেবে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোফাইল প্রণয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক কোটি ৮৭ লাখ শিক্ষার্থীর সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এদের বয়স পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্যসহ যাবতীয় তথ্য বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হবে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এসব তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সিআরভিএস এর আলোকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক কোটি ৮৭ লাখ শিশুর প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে এই প্রকল্প শুরু হয়, প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২১ সালে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিআরভিএস বাস্তবায়নের সঙ্গে এটি যুক্ত হবে।

এদিকে ব্যানবেইস সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত (১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী) প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ইউনিক আইডি।

‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম এর আগে বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিককেই চিহ্নিত করার মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও তথ্য নিবন্ধিত করা এবং এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিসংখ্যান তৈরি করার নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে সিআরভিএস। আন্তর্জাতিকভাবে জন্ম, মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ, বিবাহ, তালাক এবং দত্তক এই ছয়টি বিষয়ই সিআরভিএস এর অংশ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে সিআরভিএস এ এই ছয়টির পাশাপাশি আরও মাইগ্রেশন, এনরোলমেন্ট এবং সার্ভিস ডেলিভারি এই তিনটি বিষয় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে। এটাকে আমরা বলছি সিআরভিএস প্লাস প্লাস।’

ব্যানবেইস সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি সিটিজেন ডাটা স্ট্রাকচার। এই ডাটা স্ট্রাকচারের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর সব তথ্য থাকবে। এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে গেলে শুধু ইউআইডি নম্বর দিলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে। নতুন করে কোনও তথ্য প্রয়োজন হবে না। সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইউআইডি নম্বর চেক করলেই সব তথ্য পাবে। এখানে কোনও তথ্য ভুল হওয়ার সুযোগ নেই এবং নকল করার সুযোগ থাকবে না। এই ডাটাবেইসে তার সারা জীবনের তথ্য সংযোজিত হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব তথ্যই থাকবে। একটি সময়ে গিয়ে দেশের সব মানুষ এই ডাটাবেইসের মধ্যে চলে আসবে। জনসংখ্যার পরিসংখ্যান করতে নতুন করে কোনও সময় ও অর্থ ব্যয় হবে না।

এই ডাটাবেইসে শিক্ষার্থীর ফল, কোন বিষয়ে ভালো এবং তার ব্যক্তি জীবনের অনেক তথ্যই থাকবে। চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ডাটাবেস কাজে লাগবে। শনাক্ত নম্বরটি দিলেই সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর তার তথ্য জানতে পারবে।

দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বিশেষ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে আগে থেকেই সিআরভিএস কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তবে এসব কার্যক্রমে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। এরই পথ ধরে কার্যকর সিআরভিএস ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সিআরভিএস ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সিআরভিএস সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটি গঠন হয়। পরের বছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সিআরভিএস সচিবালয় গঠন হয়। সিআরভিএস সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনায় এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহায়তায় ‘সিআরভিএস সচিবালয়’ সিআরভিএস বাস্তবায়নের কাজ করছে।

/এফএস/

লাইভ

টপ