বর্জ্য অপসারণে মাঠে দুই সিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:১৩, আগস্ট ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৬, আগস্ট ০১, ২০২০

 

রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছে দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি)। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। দুই সিটির মোট সাড়ে ১৭ হাজার কর্মীর পাশাপাশি ৭৫০টি গাড়ি মাঠে নেমে পড়েছে। দুই মেয়র জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম দুপুর ২টায় ডিএনসিসির সাঈদনগর কোরবানি পশুর হাট পরিষ্কারের মধ্যদিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সকালে বলেছেন, দুপুর দুইটার পর থেকেই কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কর্মক্রম শুরু করবেন।’ ডিএসসিরি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক জানিয়েছেন, দুপুরের পরপরই তাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, সবগুলোই প্রয়োগ করা হচ্ছে।

দুই সিটি করপোরেশনের সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য নগরীতে ৩৩১টি নির্ধারিত স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৫৬টি ও দক্ষিণ সিটির ৭৫টি স্থান রয়েছে।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবছর  ১০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে— এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এ ছাড়া হালাল উপায়ে পশু কোরবানি করার জন্য ২৫০ জন ইমাম ও ২৫০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও  জানান, বর্জ্য অপসারণের জন্য ডিএনসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীসহ ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাঠে রয়েছেন। ডিএনসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এ কাজের সঙ্গে সরাসরি নিয়োজিত রয়েছেন। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

মেয়র আরও  জানান, বর্জ্য অপসারণে ভারী ও হালকা মিলে ৪৩০টি যানবাহন মাঠে কাজ শুরু করেছে। ১১টি পানির গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানির স্থান দূষণমুক্ত করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রায় ৫১ টন ব্লিচিং পাউডার ও ৫ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৯৬০ ক্যান তরল জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ চলছে।

অপরদিকে ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য সুষ্ঠু তদারকিতে নগর ভবনে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন পরিক্রমার মাধ্যমে কোরবানি বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। এছাড়া প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে মোট ১০টি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি মাঠে কাজ করছে। ডিএসসিসি এলাকায় কোরবানি দেওয়ার জন্য ৭৫টি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি আরও জানিয়েছে, ঈদের দিন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে। বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ডিএসসিসি থেকে প্রায় এক লাখ বিশেষ ধরনের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ডিএসসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীসহ মোট ছয় হাজার জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত থাকবেন।  প্রতিদিনের সৃষ্ট বর্জ্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। বর্জ্য অপসারণের জন্য ভারী ও হালকাসহ তিন শতাধিক যানবাহন মাঠে কাজ করছে। এছাড়া ১২টি পানির গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানির স্থান দূষণমুক্ত করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখাতে ৪২ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১৮০০ লিটার তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হবে।

 

/এসএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ