অনলাইনেই চলছে উহান ফেরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২০:২১, আগস্ট ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২২, আগস্ট ১৪, ২০২০

দেশে আসার পর আশকোনা ক্যাম্পে রাখা হয় উহানের শিক্ষার্থীদেরকরোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় চীনের হুবেই প্রদেশে। এই প্রদেশের উহানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। সেই প্রদেশে বসবাসরত মানুষের মাঝে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশে ফেরেন সরকারের সহায়তায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফিরতে এখনও অনুমতি দেয়নি চীন, যার কারণে দেশেই অবস্থান করছেন উহান ফেরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তবে দেশ থাকলেও তাদের শিক্ষা কার্যক্রম থেমে নেই। বাংলাদেশে বসেই অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা সবকিছুতে অংশ নিচ্ছেন তারা। তবে ইন্টারনেটসহ নানা জটিলতায় কেউ কেউ ড্রপ দিয়েছেন সেমিস্টার।

হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হওয়ার পর এই শহরে সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে চীন। এতে আটকা পড়েন শহরে বাসিন্দারা, যার মধ্যে ৫০০ জনেরও অধিক বাংলাদেশি ছিল। অধিকাংশ বাংলাদেশি উহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা দেশে ফেরার আকুতি জানালে উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ২ ফেব্রুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ রেসকিউ ফেরি ফ্লাইটে ৩১২ জনকে উহান থেকে দেশে ফেরত আনা হয়।
জামালপুরের হাবিবুর রহমান হাবিব হুবেই ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে মেকানিক্যাল ম্যানুফেকচার ও অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। দেশে ফেরার পর অন্যদের সঙ্গে তাকেও আশকোনা হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। এরপর জামালপুরে বাড়িতে চলে যান। দেশে ফিরে এলেও অনলাইনে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিয়েছেন তিনি।
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আমাদের ক্লাস অনলাইন হয়েছে, সেগুলোতে অংশ নিয়েছি। অনলাইনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছি। এখন ছুটি চলছে। সেপ্টেম্বরে আবার নতুন সেমিস্টার শুরু হবে। চীন সরকার এখনও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তবে আশা করছি সেপ্টেম্বরের দিকে যেতে পারবো।’
উহান থেকে ৩১২ বাংলাদেশিকে ফেরত আনতে সরকারের ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। দেশে ফেরার পর উহান ফেরতদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। তবে সে সময় কারও শরীরে করোনা শনাক্ত হয়নি। তবু দেশে ফিরে অনেককেই পড়তে হয়েছে সামাজিক নানা বিড়ম্বনায়। চীন থেকে আসায় হেয় হতে হয়েছে অনেককেই। করোনা আক্রান্ত না হলেও অনেকেই তাদের এড়িয়ে চলেছেন।
বগুড়ার শাফি হুবেই ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। তিনিও দেশে ফিরে অনলাইনেই ক্লাস ও পরীক্ষা দিয়েছেন। শাফি বলেন, ‘আতঙ্কের মধ্যে দেশে চলে এসেছিলাম। তখন চীনে থমথমে পরিস্থিতি ছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে না এলেও চলতো। বরং বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও ঠিক হয়নি। আমরা আবার কবে ফিরে যেতে পারবো তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে আমাদের ক্লাস, পরীক্ষা নিয়মিত অনলাইনে হয়েছে। পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তি শুরু হবে আগামী মাসে। যদি চীন সরকার অনুমিত দেয়, তবে দ্রুত ফিরে যাবো।’
চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ হুবেই ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশে এসেও অনেকেই ক্লাস পরীক্ষা চালিয়ে নিয়েছেন। তবে গ্রামে অনেক জায়গায় ইন্টারনেটের গতি কম হওয়ায় অনেকেই ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় সেমিস্টার ড্রপ দিয়েছেন।
বরিশালের শিকদার মো. ইলিয়াস ওই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘এবার অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা দিলাম। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যেসব বিষয়ে অংক আছে, প্র্যাকটিক্যাল বিষয় আছে, সেগুলো আসলে অনলাইনে ক্লাস করে কতটা বুঝতে পারবো জানি না। এজন্য আগামী সেমিস্টারে কী হবে বুঝতে পারছি না। চীনে ফিরে যেতে না পারলে ভাবছি আগামী সেমিস্টার ড্রপ দিবো। যাদের বেসিক সাবজেক্ট তাদের জন্য হয়তো অনলাইন ক্লাসে সমস্যা হবে না।’

/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ