১৪ বছর জেল খেটে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন লাকসামের হুমায়ুন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০০, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০২, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

সুপ্রিম কোর্ট

স্কুলছাত্রীকে হত্যার মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুরের  মাধ্যমে কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরকে খালাস দিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ  হুমায়ুন কবিরের জেল আপিল মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ এই মামলা থেকে খালাস পেলেন হুমায়ুন।

আদালতে হুমায়ুন কবিরের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী এবিএম বায়েজিদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

পরে আইনজীবী এবিএম বায়েজিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মামলায় গ্রহণযোগ্য কোনও সাক্ষী ছিল না। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শিশুটির লাশ উদ্ধারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিচারের সময় জেরা করা হয়নি। এছাড়া হুমায়ুন কবির তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, শিশুটি তার খালাত বোনের মেয়ে। শিশুর বাবা তার কাছে এক হাজার ৬০০ টাকা পেতেন।  কিন্তু শিশুটির বাবা সাক্ষ্যে বলেছেন, তিনি হুমায়ুন কবিরকে চেনেন না। আবার শিশুটির মাকেও এ মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। শিশুটির মাকে সাক্ষী করা হলে জানা যেতো হুমায়ুন কবির আদৌ তাদের পরিচিত কেউ কিনা। ফলে এখানে সন্দেহ রয়ে গেছে।’

এর আগে  ২০০৪ সালের ৩০ জুন লাকসামের কনকশ্রী গ্রামের সাকেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বেলা সোয়া ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু স্কুল ছুটি হওয়ার পরও বাড়ি ফিরে না আসায় স্কুলে খোঁজ করেন তার অভিভাবকরা। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে শিশুটি স্কুলে যায়নি। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে তাকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিনই থানায় জিডি দায়ের করেন শিশুটির চাচা মো. জসীম উদ্দিন।

ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার পথে মাথা ব্যথার কারণে শিশুটিকে সাকেরা গ্রামের মাস্টার বাড়ির পাশে কালভার্টের ওপরে শুয়ে পড়তে দেখেন। এসময় আরও ৫-৬ জন লোক ছিল সেখানে। ওই সময় হুমায়ুন কবির এসে সবাইকে তাড়িয়ে দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থী যাওয়ার সময় শিশুটিকে বাড়ি যেতে বললে হুমায়ুন কবির শিশুটির মামা পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু হুমায়ুন কবির শিশুটিকে বাড়ি পৌঁছে দেরনি। পরে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার আবেদন জানিয়ে লাকসাম থানায় এজাহার দায়েরের পর ২০১৪ সালের ২ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পুলিশ মামলা করে।

এরপর ২০০৪ সালের ৪ জুলাই ট্রাকচালক হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দিনই কালভার্টের পাশে জঙ্গলের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল বিচারিক আদালত হুমায়ুন কবিরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। নিয়ম অনুসারে ডেথ রেফারেন্স ও আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন হুমায়ুন। সেই আপিল মঞ্জুর করার আদেশ দেওয়ায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর খালাস পেলেন হুমায়ুন কবির।

 

/বিআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ