করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০১, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৫, অক্টোবর ২৪, ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি সতর্ক করেছে, আগামী শীতে সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবারও বাড়তে পারে, যাকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বলা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের চলমান প্রথম ঢেউ এবং সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় শুধু সরকারের একক পদক্ষেপ নয়; এর সঙ্গে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, বেসরকারি এনজিও, কমিউনিটি লিডার, যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শনিবার (২৪ অক্টোবর ) আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ও আমাদের করণীয় শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে বক্তরারা করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ওয়েবিনারে স্থানীয় সরকার , পল্লী ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর পৃথিবীর সব দেশকে নানান প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আমরা আগে থেকে প্রস্তুত থাকার কারণে পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছিল। এই লক্ষ্যে সরকার মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও গ্রহণ করে। আর এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনেক বড় ভূমিকাটি পালন করে। এখন করোনার ২য় ঢেউ নিয়ে বলা হচ্ছে, সরকার সতর্কতার সাথে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। যখন যেটা করা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে সেটা করা হবে।
বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্য প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে করোনার প্রথম ঢেউ এখনও চলছে। সংক্রমণের হার ১৫ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে। এটা আবার ২০ শতাংশের উপরে উঠতে শুরু করলে তখন ২য় ঢেউ আসার কথা বলা যাবে। করোনা শুরু হওয়ার পর এটা প্রথম শীতকাল। শীতের মধ্যে করোনা কেমন আচরণ করে সেটা আমরা এখনো জানি না। এজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রথম ঢেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে যেসব ভুল ত্রুটি হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে আর এই ভুলগুলো না হয়। আমরা দেখেছি প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমার অনুরোধ এই ধরনের ভুল যেন আমরা আর না করি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন। সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করার জন্য আমাদের যুব সমাজকে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে আমি মনে করি।
হাঙ্গার প্রোজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, করোনা আমাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আমরা এখন লক্ষ্য করছি। ইউরোপ-আমেরিকাতে এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। আমাদের দেশেও একটা দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আশঙ্কা আছে।

/এসও/এমআর/

লাইভ

টপ