করোনায় এইচআইভি টেস্টে ঘাটতি পড়েছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৮:২১আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৮:২১

এইডস চলতি বছরে করোনা মহামারির কারণে এইচআইভি এইডস টেস্টে কিছুটা ঘাটতি পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস/এসটিডি কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রতিবছর এইচআইভি টেস্টিং টার্গেট থাকে আমাদের। সেক্ষেত্রে চলতি বছরে কিছু ঘাটতি হয়েছে। যে পরিমাণ টার্গেট আমরা করেছিলাম, সে পরিমাণ টেস্ট আমরা করতে পারিনি, কোভিড পরিস্থিতির কারণে।
শনিবার ( ২৮ নভেম্বর) এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি কুসংস্কার, বৈষম্য নিরসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। আক্তারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালগুলাতেও মোট রোগীর সংখ্যাও কমে এসেছিল। আর হাসপাতালে রোগী থেকেই এইচআইভি টেস্টিং সেন্টারে রেফার করা হয়ে থাকে টেস্ট করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, টেস্টিং এর জন্য বড় একটি জায়গা হচ্ছে গামকা (গালফ কো–অপারেশন কাউন্সিল অ্যাপ্রুভড মেডিক্যাল সেন্টারস অ্যাসোসিয়েশন। গামকার আওতায় থাকা দেশগুলোতে যেতে হলে এইচআইভি টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। বছরে এখানে প্রায় সাত লাখ পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু চলতি বছরে মার্চের পর থেকে এই পরীক্ষা বন্ধ ছিল। আর সাধারণত যাদের এই পরীক্ষা করানো হয় তারা লকডাউনের কারণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, হারিয়ে গেছে।
মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাশের দেশ ভারতের মিজোরাম, মনিপুর, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং সেখানে এইচআইভি পজিটিভ রোগীও আছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রোগী থাকার কারণে আমরা এখনও নিরাপদ নই।
দেশে প্রথম ১৯৮৯ সালে প্রথম এইচআইভি এইডস শনাক্ত হয়। ২০১৯ সালে এ রোগে শনাক্ত হন ৯১৯ জন, আর মারা যান ১৭০ জন। অপরদিকে, ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দেশে এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত সাত হাজার ৩৭৪ জন শনাক্ত হন, যার মধ্যে ১ হাজার ২৪২ জন মারা গেছেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মোট শনাক্ত হওয়া সাত হাজার ৩৭৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী আছেন রাজধানী ঢাকায়, প্রায় দুই হাজার ৫০০ জনের মতো।
আবার গত বছরে যে ৯১৯ জন শনাক্ত হন তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ১০৫ জন। তার আগের বছরে ছিল ৮৬৫ জন। এই হিসাবে যে জেলা থেকে বেশি শনাক্ত হচ্ছেন, সেসব জেলাকে এইচআইভি কর্মসূচির আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডা. আক্তারুজ্জামান।
বাংলাদেশর ২৩টি জেলাতে এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত রোগী বেশি জানিয়ে তিনি বলন, এই ২৩ জেলার ২৮ কেন্দ্রে এইচআইভি এইডসের সেবা কার্যক্রমও বেশি, বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা সেবাও চলছে এসব জেলাতে ১১টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালগুলোতে।
গত এক বছরে নারী যৌনকর্মী, পুরুষ যৌনকর্মী, শিরায় মাদক গ্রহণকারী এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভেতরে পরীক্ষা করে শতকরা এক শতাংশ পজিটিভ পাওয়া গেছে, যা কিনা বিগত কয়েক বছর আগেও অনেক বেশি ছিল। আবার এর মধ্যে শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে পজিটিভিটির হার বেশি, শতকরা ২৪ শতাংশ, আর প্রবাসী ও অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন ২০ শতাংশ। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক শূন্য একেরও নিচে।

/জেএ/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বেনজীরকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বেনজীরকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দিতে চাওয়া সোহাগ কী মামলায় গ্রেফতার?
খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দিতে চাওয়া সোহাগ কী মামলায় গ্রেফতার?
এবার একসঙ্গে ১২৫ জনকে সীমান্তে জড়ো করেছে বিএসএফ, প্রস্তুত বিজিবিও
এবার একসঙ্গে ১২৫ জনকে সীমান্তে জড়ো করেছে বিএসএফ, প্রস্তুত বিজিবিও
খড়ের গাদা পুড়িয়ে ভালোবাসা খোঁজা? ডেটিংয়ে ‘বার্নড হেস্ট্যাক’ কতটা কার্যকর
খড়ের গাদা পুড়িয়ে ভালোবাসা খোঁজা? ডেটিংয়ে ‘বার্নড হেস্ট্যাক’ কতটা কার্যকর
সর্বাধিক পঠিত
ওসি বললেন চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল, একটা কল আসার পর, ‘ভাইয়া বসেন’
ওসি বললেন চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল, একটা কল আসার পর, ‘ভাইয়া বসেন’
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?
দীর্ঘবছর পর শাকিবের দেখা পেয়ে পূর্ণিমা, ‘ও এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে’
দীর্ঘবছর পর শাকিবের দেখা পেয়ে পূর্ণিমা, ‘ও এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে’
ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের লাশ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা
ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের লাশ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি