বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মসজিদ

মসজিদের নাম অ্যারোপ্লেন মসজিদ 

আতিক হাসান শুভ
৩১ মে ২০২১, ১০:০০আপডেট : ৩১ মে ২০২১, ১৩:৩২

বাংলাদেশের যে স্থাপনাশৈলী এখনও বিমোহিত করে চলেছে অগণিত মানুষকে, তার মধ্যে আছে দেশজুড়ে থাকা অগণিত নয়নাভিরাম মসজিদ। এ নিয়েই বাংলা ট্রিবিউন-এর ধারাবাহিক আয়োজন ‘বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মসজিদ’। আজ থাকছে রাজধানীর অ্যারোপ্লেন মসজিদ।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মসজিদটি নির্মিত হয় ষাটের দশকে। তখন থেকেই লোকে এটাকে অ্যারোপ্লেন মসজিদ কিংবা বিমান মসজিদ বলে ডাকে। ঢাকার প্রায় সবার কাছেই পরিচিত ব্যতিক্রমি মসজিদটি। স্থাপত্যশৈলী নান্দনিক হলেও মূল আকর্ষণ হলো পাঁচতলা এই মসজিদে বসানো অতিকায় এক উড়োজাহাজের মডেল। 

মসজিদের নাম অ্যারোপ্লেন মসজিদ  মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মো. ইসমাইল। ১৯৮১ সালে তিনি মারা যান।  মো. ইসমাইলের বাবা মো. ইব্রাহিম ছিলেন ঢাকার নবাবদের স্টেটের মুনশি। সে সুবাদে নীলক্ষেত ও লালমাটিয়া এলাকায় তিনি প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির মালিকানা পান।

বাবার মৃত্যুর পর মো. ইসমাইল নিজেদের প্রায় ৯ কাঠা জমির ওপর ১৯৬০ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। মো. ইসমাইলের ছোট ছেলে আনিসুর রহমানের সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্নে মসজিদটি ছিল একতলা। মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ছাদে উড়োজাহাজের একটি মডেল স্থাপন করা হয়।

স্বাধীনতার পর একতলা মসজিদটি দোতলা করা হয়। যতবার মসজিদের উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে , ততবার উড়োজাহাজের মডেলটিকে উপরে তোলা হয়েছে। মিনারের চূড়ায় ৬০ বছরের পুরনো উড়োজাহাজটি অক্ষত আছে এখনও।

মসজিদের নাম অ্যারোপ্লেন মসজিদ  ১৯৭৯ সালে মসজিদটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০২ সালে এই মসজিদটিতে আবাসিক মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়।

সময়ের পালাক্রমে ধীরে ধীরে মসজিদটি সম্প্রসারিত হয়েছে। বদলেছে সড়কের নামও। সড়কটির নাম এখন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণি। বিখ্যাত অ্যারোপ্লেন  মসজিদের সহকারী ইমাম বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। ঢাকায় এমন মসজিদ আর পাওয়া যাবে না। মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন, নামাজ পড়েন, ভালো লাগে।’

মসজিদটিতে অর্ধ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এর পরিচালনার দায়িত্বে আছেন প্রয়াত মো. ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা। মসজিদের অধীনে কিছু দোকান রয়েছে। মূলত, দোকানভাড়া ও দানবাক্সে পাওয়া অর্থ দিয়েই মসজিদটি পরিচালনা করা হয়।

মসজিদের নাম অ্যারোপ্লেন মসজিদ  তবে মসজিদের নাম কেন অ্যারোপ্লেন মসজিদ রাখা হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। ধারণা করা হয় প্রতিষ্ঠাতা মো. ইব্রাহিম মসজিদটিকে একটি অন্যরকম ল্যান্ডমার্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই এমন নাম রেখেছেন। ষাটের দশকে ‘ছাতা মসজিদ’, ‘জাহাজ মসজিদ’ ইত্যাদি নামে মসজিদ ছিল। এ কারণে সম্ভবত তিনি এমন নাম রেখেছেন।

/এফএ/
সম্পর্কিত
রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা
এমপির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে ইমাম-মুয়াজ্জিনের মর্মান্তিক মৃত্যু
চিনামাটির নকশায় মুগ্ধতা ছড়ায় সৈয়দপুরের শতবর্ষী ‘চীনা মসজিদ’
সর্বশেষ খবর
ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফেরানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফেরানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
সহজ হলো ঢাকা-গোপালগঞ্জ যাতায়াত
সহজ হলো ঢাকা-গোপালগঞ্জ যাতায়াত
এসএসসিতে এত খারাপ ফল ১৯ বছর আগে দেখেছিল বাংলাদেশ
এসএসসিতে এত খারাপ ফল ১৯ বছর আগে দেখেছিল বাংলাদেশ
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৭৪
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৭৪
সর্বাধিক পঠিত
গ্রেফতারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে কী সাজা হলো সেই ‘ভাইরাল মিজানের’
গ্রেফতারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে কী সাজা হলো সেই ‘ভাইরাল মিজানের’
‘ওসি কোথায়?’ প্রশ্নের পর থানাতেই সিআইডি ইন্সপেক্টরকে থাপ্পড়, কৃষকদল নেতা আটক
‘ওসি কোথায়?’ প্রশ্নের পর থানাতেই সিআইডি ইন্সপেক্টরকে থাপ্পড়, কৃষকদল নেতা আটক
প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে আসছে নতুন মুখ?
প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে আসছে নতুন মুখ?
‘খুব ভয়ে আছি, স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠাতে পারছি না’, বললেন বাফুফের বিদেশি কোচ
‘খুব ভয়ে আছি, স্ত্রী-সন্তানকে টাকা পাঠাতে পারছি না’, বললেন বাফুফের বিদেশি কোচ
সাবেক সমন্বয়কের ওপর যুবলীগের হামলা, একজোট হলো বিএনপি-জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী
সাবেক সমন্বয়কের ওপর যুবলীগের হামলা, একজোট হলো বিএনপি-জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী