জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যে যেখানে আছি, সেখানে নিজেদের শক্তিশালী করতে হবে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভয়াবহ দানব সরকারকে সরিয়ে, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
শুক্রবার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতীকী অনশনে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন পালন করা হয়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শুধু আইনি লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দখলদার সরকার, তারা জবরদখল করে ক্ষমতায় বসে আছে। এরা নির্বাচিত সরকার নয়। সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। এই ক্ষমতা চিরস্থায়ী হতে পারে না। এই ক্ষমতা অবশ্যই শেষ হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান একে একে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা সেনাবাহিনীকেও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।’
খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কতটা যে, নিম্ন আদালত যেখানে তাকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছিল, সেখানে উচ্চ আদালত সেই সাজা ১০ বছর করেছে। আর আজকে প্রমাণ হয়েছে, খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়।’
বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণের কারণে আজকে সারাদেশের মানুষ অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
পরে নেতাকর্মীদের জুস ও পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনশনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার, হাবিবুর রহমান হাবিব, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ড্যাবের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. হারুনুর রশিদ, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।







