আজকের গণতন্ত্র কোটিপতির গণতন্ত্র: শাহদীন মালিক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৩৮আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৩০

শাহদীন মালিক (ছবি সংগৃহীত) অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিরা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের একজন ছাড়া কারও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। তাদের মধ্যে কমন বিষয় হলো তারা কোটিপতি। আমাদের আজকের গণতন্ত্র কোটিপতির গণতন্ত্র।’ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বিশ্বব্যাপী ইভিএম প্রত্যাখ্যান এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
বাংলাদেশে সৎ পথে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব না উল্লেখ করে শাহদীন মালিক বলেন, ‘কোটিপতিদের নির্বাচনে গরিবদের দুঃখ নিয়ে কথা বলা অনেক সহজ। তবে এই দুঃখ-দুর্দশা তাদের গায়ে লাগে না। এ কারণে আমরা কোটিপতিদের প্রতারণামূলক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আর দেশে গণতন্ত্রহীনতা, কর্মহীনতা আরও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। সিটি নির্বাচনের উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র পদের প্রধান চার জনের (আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীরা) মধ্যে একটা কমন বিষয় রয়েছে। তারা যেকোনোভাবেই কোটিপতি। তারা শিল্পপতি কোটিপতি, অন্যান্য বিভিন্নভাবে কোটিপতি। তারা প্রচার-প্রচারণার সময় বিভিন্ন বস্তি এলাকায় যান। কিন্তু দেখেন, আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্র আজ কোথায় গেছে!’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সমালোচনা করে শাহদীন মালিক বলেন, ‘ইভিএম চাচ্ছে কে? সরকার ও নির্বাচন কমিশন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন খুব ভালো। প্রতি নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য তারা নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করে। ২০১৪ সালে গন্ডগোল লাগিয়ে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেলেন। এটা তো স্পষ্ট যে ২০১৮ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করা যাবে না। তখন তারা বের করলো অন্য উপায়। আগের দিন ভোট শেষ করে ফেললো। এখন আমরা এটাও জেনে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে রাতে ৩-৪টায় ভোট দেওয়া শুরু করলে আর কেউ না হোক সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে যাবেন। অতএব এবার তাদের আরেকটি নতুন পন্থা উদ্ভাবন করতে হয়েছে। এই একটা কাজে স্পষ্ট, সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনগুলো বিশেষ পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। এখন ইভিএম হলো প্রতারণার নতুন পদ্ধতি। এতে আমাদের একটু সন্দেহ আছে, বুঝতে পারছি যে এখানে প্রতারণা হবে। ঠিক কীভাবে ধরবো, কীভাবে করবো, সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। এই নির্বাচন হয়ে গেলে, আমরা বুঝে উঠতে পারবো। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, পরের নির্বাচনে প্রতারণার আরেকটি নতুন পদ্ধতি আসবে।’

ঢাকা শহরের অধিকাংশ নাগরিক এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন মন্তব্য করে শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ লোকেই জানি এখানে কারচুপি হবে। আর ইভিএমের বিষয়ে দিন দিন যেহেতু সংশয় বাড়ছে, এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই ভোট হয়ে যাবে। ভোটের দিন অল্প সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হবে।’

ভোটাধিকার হরণ ও ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতেই সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইভিএমের ব্যবহারে অনড় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

/এএইচআর/টিটি/এপিএইচ/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম